ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীরা Logo প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo দুই হাত নেই, মুখে কলম ধরে দাখিলে উত্তীর্ণ রিয়াদ Logo হঠাৎ ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রী, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে ধরা পড়ল বড় অনিয়ম Logo কদমতলীতে রিকশাচালক ইমন হত্যা মামলায় আল-আমিনের যাবজ্জীবন Logo ত্রিশালে ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ Logo তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ Logo নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ Logo সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে বিদেশি আইনজীবীর আবেদন Logo মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কিনা সিদ্ধান্ত ৭ সেপ্টেম্বর

তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনোই ‘এত শক্তিশালী’ ছিল না : রেমন্ড গ্রিন

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে।

তাইওয়ানের কম্পানিগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ দেশটির শিল্প খাতকে আবার শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।

সোমবার তাইপেতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রেমন্ড গ্রিন। তিনি তাইপেতে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রিন বলেন, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই এত শক্তিশালী ছিল না।

বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে আমাদের সহযোগিতা আরো গভীর হচ্ছে।’ বেশির ভাগ দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একটি।

দেশটি তাইওয়ানের বড় অস্ত্র সরবরাহকারীও। এদিকে তাইওয়ানের বিভিন্ন কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি বা টিএসএমসি।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে টিএসএমসির বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৫ বিলিয়ন ডলার। গ্রিন বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে আবার শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। অ্যারিজোনা ও টেক্সাসে বিনিয়োগের মাধ্যমে এর শুরু হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোও তাইওয়ানে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে এবং প্রধান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকেন্দ্র সিঞ্চুতে মার্কিন কম্পানিগুলো প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে। তাইপেতে এ সপ্তাহে সেমিকন চিপ বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেলাকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রিন এসব কথা বলেন।

মেলায় মাইক্রোসফট, গুগলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি কম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পণ্যের একটি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে চিপ ব্যবহার করা হয়। তাইওয়ান বিশ্বের উন্নত চিপ তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে টিএসএমসি বিশ্বের অনেক বড় প্রযুক্তি কম্পানির জন্য চিপ তৈরি করে। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একদিকে সহযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা ‘চুরি’ করার অভিযোগ তুলেছেন। তাইওয়ান সরকার এই অভিযোগ ও ধারণাকে অন্যায্য বলে মনে করে। তবে এর পরও তাইওয়ানের সরকার দেশটির কম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে গ্রিনের সঙ্গে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচি ‘চিপস অ্যাক্ট’ দেখভাল করেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি আগামী কয়েক দশকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাণিজ্য বিভাগের সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক বিল ফ্রাউনহোফার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন শুধু সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করছে না। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং এমন পেশার সুযোগ তৈরি করা, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে আরো শক্তিশালী করবে। ফ্রাউনহোফার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটির প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী চিপ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীরা

তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনোই ‘এত শক্তিশালী’ ছিল না : রেমন্ড গ্রিন

আপডেট সময় ১০:৪২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে।

তাইওয়ানের কম্পানিগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ দেশটির শিল্প খাতকে আবার শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।

সোমবার তাইপেতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রেমন্ড গ্রিন। তিনি তাইপেতে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রিন বলেন, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই এত শক্তিশালী ছিল না।

বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে আমাদের সহযোগিতা আরো গভীর হচ্ছে।’ বেশির ভাগ দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একটি।

দেশটি তাইওয়ানের বড় অস্ত্র সরবরাহকারীও। এদিকে তাইওয়ানের বিভিন্ন কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি বা টিএসএমসি।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে টিএসএমসির বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৫ বিলিয়ন ডলার। গ্রিন বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে আবার শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। অ্যারিজোনা ও টেক্সাসে বিনিয়োগের মাধ্যমে এর শুরু হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোও তাইওয়ানে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে এবং প্রধান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকেন্দ্র সিঞ্চুতে মার্কিন কম্পানিগুলো প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে। তাইপেতে এ সপ্তাহে সেমিকন চিপ বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেলাকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রিন এসব কথা বলেন।

মেলায় মাইক্রোসফট, গুগলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি কম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পণ্যের একটি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে চিপ ব্যবহার করা হয়। তাইওয়ান বিশ্বের উন্নত চিপ তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে টিএসএমসি বিশ্বের অনেক বড় প্রযুক্তি কম্পানির জন্য চিপ তৈরি করে। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একদিকে সহযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা ‘চুরি’ করার অভিযোগ তুলেছেন। তাইওয়ান সরকার এই অভিযোগ ও ধারণাকে অন্যায্য বলে মনে করে। তবে এর পরও তাইওয়ানের সরকার দেশটির কম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে গ্রিনের সঙ্গে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচি ‘চিপস অ্যাক্ট’ দেখভাল করেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি আগামী কয়েক দশকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাণিজ্য বিভাগের সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক বিল ফ্রাউনহোফার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন শুধু সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করছে না। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং এমন পেশার সুযোগ তৈরি করা, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে আরো শক্তিশালী করবে। ফ্রাউনহোফার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটির প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী চিপ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ