ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মদনে কলেজে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন Logo খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহ করাই আমার মূল কাজ : খাদ্যমন্ত্রী Logo লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo টানা দুই ম্যাচে প্রত্যাবর্তন, এনরিকে বললেন এটাই আসল পিএসজি Logo জামালপুরে বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ, দরজা ভেঙে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার Logo পিংক বাসে নারী চালক নিয়োগ, সরাসরি সাক্ষাৎকারে নিয়োগ Logo কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ চার বৈঠক Logo দেশে সারের সংকট নেই, সমস্যা ডিস্ট্রিবিউশন ও ডিলার নিয়োগে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo অস্ট্রেলিয়া পরের বছরই আমাদের ডাকবে বিশ্বাস বাংলাদেশ কোচের Logo ঘুস কেলেঙ্কারিতে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা যাওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন এবং এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তার ভাষ্য, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি, বরং শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আরও বলেন, নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করতে গিয়ে তার তথ্যগত ভুল হয়েছিল। সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন তিনি। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তবে সংসদে তার বক্তব্যের সময় সীমিত থাকায় মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপনের পার্থক্য বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেননি বলেও জানান হাসনাত।

তিনি বলেন, আমি এবং আমার দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর নির্ভর করেই নিতে চাই।

জুলাইয়ের আদর্শ বলতে তিনি এমন একটি সর্বজনীন সমাজের কথা তুলে ধরেন, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও জোর করে অন্যের ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’

যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে এবং যা পছন্দ নয়, তাতে অংশ নেবে না—রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে এই অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না দাবি করে হাসনাত বলেন, এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল ওই আন্দোলনের লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

যে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

হাসনাতের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এর প্রতিবাদ শুরু হয়। শুক্রবার রাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর পরদিন বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মদনে কলেজে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় ০২:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা যাওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন এবং এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তার ভাষ্য, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি, বরং শুধু শব্দ কমাতে বলেছিল। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আরও বলেন, নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করতে গিয়ে তার তথ্যগত ভুল হয়েছিল। সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন তিনি। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তবে সংসদে তার বক্তব্যের সময় সীমিত থাকায় মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপনের পার্থক্য বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেননি বলেও জানান হাসনাত।

তিনি বলেন, আমি এবং আমার দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর নির্ভর করেই নিতে চাই।

জুলাইয়ের আদর্শ বলতে তিনি এমন একটি সর্বজনীন সমাজের কথা তুলে ধরেন, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও জোর করে অন্যের ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’

যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে এবং যা পছন্দ নয়, তাতে অংশ নেবে না—রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে এই অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না দাবি করে হাসনাত বলেন, এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল ওই আন্দোলনের লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

যে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

হাসনাতের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এর প্রতিবাদ শুরু হয়। শুক্রবার রাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর পরদিন বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ