নাটোরের লালপুরে ফরম পূরণের নামে প্রতারণার শিকার আবদুলপুর সরকারি কলেজের সেই আট শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরী।
আবদুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কলেজকে জানানো হয়। এরপর দ্রুত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ডই নিয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন জানান, আবদুলপুর সরকারি কলেজের আটজনসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বোর্ডের কাছাকাছি এলাকায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে প্রতারণার শিকার হন শিক্ষার্থীরা
আবদুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতার মুখে পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি তারা।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওনের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।
এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোয় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তারা। তবে প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আবারও সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় সোমবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন ওই আট শিক্ষার্থী।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























