ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সোনারগাঁয়ে পুলিশ পরিচয়ধারীসহ গ্রেপ্তার ২৪ Logo রাজধানীতে অস্ত্র মামলায় ৬ আসামির তিন দিনের রিমান্ড Logo যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo আমি বাংলাদে‌শি’, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo জাল টিপসই দিয়ে খাদ্যবান্ধবের ৪০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টা, ডিলার আটক Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমির মধ্যে কো-পাবলিকেশনস বিষয়ে সমঝোতা Logo হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২ Logo সবাইকে নিয়েই নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে: সিইসি Logo টেম্পোর সঙ্গে ঘর্ষণে পর্যটক এক্সপ্রেসের ৬ দরজা ক্ষতিগ্রস্ত, আহত ২

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালত চত্বরে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য

ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় শুনে এজলাস থেকে নেমে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরেই জ্ঞান হারান তিনি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য।

তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দ আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সোনারগাঁয়ে পুলিশ পরিচয়ধারীসহ গ্রেপ্তার ২৪

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালত চত্বরে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য

আপডেট সময় ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় শুনে এজলাস থেকে নেমে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরেই জ্ঞান হারান তিনি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য।

তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র আরো জানায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দ আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ