ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo মাত্র ৬ হাজার টাকার সিনেমার আয় ২৬ কোটি, কী আছে ‘নিউ লাই’তে Logo নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের অভিনন্দন Logo ক্যান্সার ফিরে আসা ঠেকাতে নতুন ভ্যাকসিন Logo কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত শেষ, শনিবারের মধ্যে দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি Logo মহাকবি হোমার কি সত্যিই অন্ধ ছিলেন ? Logo রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অধ্যাপক ইউনূসের শুভেচ্ছাবার্তা Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেয়ার কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা Logo নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার Logo ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধীদল সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাত্র ৬ হাজার টাকার সিনেমার আয় ২৬ কোটি, কী আছে ‘নিউ লাই’তে

মাত্র ৪৭ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা। এত সামান্য বাজেটে তৈরি একটি অ্যানিমেশন সিনেমা এখন চীনের বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নাম ‘নিউ লাই’। মুক্তির পর প্রথম দিকে দর্শকের তেমন আগ্রহ না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটিকে ঘিরে শুরু হওয়া ট্রোল ও আলোচনা বদলে দিয়েছে পুরো চিত্র। এখন পর্যন্ত ছবিটির আয় ছাড়িয়েছে ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

একটি গরুর স্বপ্নের অদ্ভুত কাহিনি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের গ্রাফিক্সের কারণে শুরুতে নেটদুনিয়ায় ট্রোলের শিকার হয় সিনেমাটি। সেই আলোচনা থেকেই একপর্যায়ে বাড়তে থাকে দর্শকের আগ্রহ এবং টিকিট বিক্রি।

ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৭ ডলার। মুভি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মাও ইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে সিনেমাটির আয় ছিল মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটিকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইতোমধ্যে ছবিটির মোট আয় ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য ওডিসি’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র মতো হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গেও টিকিট বিক্রিতে প্রতিযোগিতা করছে ‘নিউ লাই’।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি জনপ্রিয় পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সিনেমাটি দেখলে আপনি হয়তো ৮০ মিনিটের জন্য অনুশোচনা করবেন, কিন্তু না দেখলে অনুশোচনা থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য।’

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ছড়াছড়ির মধ্যেই নেটিজেনদের একাংশ ‘নিউ লাই’কে ব্যতিক্রমী কিছু হিসেবে দেখছেন। সিনেমাটির দুর্বল অ্যানিমেশনকে উপহাসের ছলে ‘হস্তশিল্প’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। সিনেমাটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং মানুষের হাতেই তৈরি হয়েছে, সেটি বোঝাতেও এর বিভিন্ন ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতেও ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সিনেমাটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে আরও একটি অদ্ভুত কারণ রয়েছে।

চীনে ‘ষাঁড়’ ও ‘গরু’ দুটোকেই একই চীনা অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। শেয়ারবাজারের চাঙ্গা ভাবকে বলা হয় ‘বুলিশ মার্জিন’। ফলে চাঙ্গা শেয়ারবাজারের প্রত্যাশায় অনেকে শুধু নামের কারণেও সিনেমাটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন।

এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘আগামীকাল সূচক যদি ৪ হাজার পয়েন্টে পৌঁছায়, তবে আমি সিনেমা হলে গিয়ে এই সিনেমাকে সমর্থন দিয়ে আসব।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘সিনেমাটি বাজে হলেও নামটা দুর্দান্ত।’

নামমাত্র বাজেটের এই সিনেমাটির মুক্তির আগে বড় কোনো প্রচারণাও ছিল না। এমনকি এর কোনো অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

পোস্টার না থাকায় কিছু সিনেমা হলের কর্মীরা নিজেরাই হাতে ছবি এঁকে অভিনব পোস্টার তৈরি করছেন। এসব পোস্টারের মাধ্যমেও দর্শকদের সিনেমাটির প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণকারী একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মতে, বক্স অফিসে সিনেমাটির এই সাফল্য অভূতপূর্ব। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি নাও হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

তবে সবাই এই সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। গত সপ্তাহের শেষে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এভাবে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়ে নিম্নমানের সিনেমা প্রচার করতে থাকলে প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শকদের বিশ্বাস হারাতে পারে।

বেইজিং নিউজের নিবন্ধে বলা হয়, ‘অতীতে বাজে কাজের জন্য সমালোচিত হওয়া সিনেমাগুলোর মতো ‘নিউ লাই’ ছবিটির মাধ্যমে বাজে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশার মান আরও এক ধাপ নিচে নেমে গেল।’

প্রেক্ষাগৃহগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ‘সিনেমা হলগুলোর উচিত দর্শকদের জন্য সচেতন অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। স্ট্যান্ডার্ডের নিচে থাকা এমন নিম্নমানের সিনেমাকে প্রশ্রয় না দিয়ে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা।’

সূত্র: দ্যা হিন্দু

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মাত্র ৬ হাজার টাকার সিনেমার আয় ২৬ কোটি, কী আছে ‘নিউ লাই’তে

আপডেট সময় ০৯:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র ৪৭ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা। এত সামান্য বাজেটে তৈরি একটি অ্যানিমেশন সিনেমা এখন চীনের বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নাম ‘নিউ লাই’। মুক্তির পর প্রথম দিকে দর্শকের তেমন আগ্রহ না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটিকে ঘিরে শুরু হওয়া ট্রোল ও আলোচনা বদলে দিয়েছে পুরো চিত্র। এখন পর্যন্ত ছবিটির আয় ছাড়িয়েছে ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

একটি গরুর স্বপ্নের অদ্ভুত কাহিনি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের গ্রাফিক্সের কারণে শুরুতে নেটদুনিয়ায় ট্রোলের শিকার হয় সিনেমাটি। সেই আলোচনা থেকেই একপর্যায়ে বাড়তে থাকে দর্শকের আগ্রহ এবং টিকিট বিক্রি।

ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৭ ডলার। মুভি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মাও ইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে সিনেমাটির আয় ছিল মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটিকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইতোমধ্যে ছবিটির মোট আয় ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য ওডিসি’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র মতো হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গেও টিকিট বিক্রিতে প্রতিযোগিতা করছে ‘নিউ লাই’।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি জনপ্রিয় পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সিনেমাটি দেখলে আপনি হয়তো ৮০ মিনিটের জন্য অনুশোচনা করবেন, কিন্তু না দেখলে অনুশোচনা থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য।’

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ছড়াছড়ির মধ্যেই নেটিজেনদের একাংশ ‘নিউ লাই’কে ব্যতিক্রমী কিছু হিসেবে দেখছেন। সিনেমাটির দুর্বল অ্যানিমেশনকে উপহাসের ছলে ‘হস্তশিল্প’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। সিনেমাটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং মানুষের হাতেই তৈরি হয়েছে, সেটি বোঝাতেও এর বিভিন্ন ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতেও ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সিনেমাটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে আরও একটি অদ্ভুত কারণ রয়েছে।

চীনে ‘ষাঁড়’ ও ‘গরু’ দুটোকেই একই চীনা অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। শেয়ারবাজারের চাঙ্গা ভাবকে বলা হয় ‘বুলিশ মার্জিন’। ফলে চাঙ্গা শেয়ারবাজারের প্রত্যাশায় অনেকে শুধু নামের কারণেও সিনেমাটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন।

এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘আগামীকাল সূচক যদি ৪ হাজার পয়েন্টে পৌঁছায়, তবে আমি সিনেমা হলে গিয়ে এই সিনেমাকে সমর্থন দিয়ে আসব।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘সিনেমাটি বাজে হলেও নামটা দুর্দান্ত।’

নামমাত্র বাজেটের এই সিনেমাটির মুক্তির আগে বড় কোনো প্রচারণাও ছিল না। এমনকি এর কোনো অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

পোস্টার না থাকায় কিছু সিনেমা হলের কর্মীরা নিজেরাই হাতে ছবি এঁকে অভিনব পোস্টার তৈরি করছেন। এসব পোস্টারের মাধ্যমেও দর্শকদের সিনেমাটির প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণকারী একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মতে, বক্স অফিসে সিনেমাটির এই সাফল্য অভূতপূর্ব। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি নাও হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

তবে সবাই এই সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। গত সপ্তাহের শেষে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এভাবে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়ে নিম্নমানের সিনেমা প্রচার করতে থাকলে প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শকদের বিশ্বাস হারাতে পারে।

বেইজিং নিউজের নিবন্ধে বলা হয়, ‘অতীতে বাজে কাজের জন্য সমালোচিত হওয়া সিনেমাগুলোর মতো ‘নিউ লাই’ ছবিটির মাধ্যমে বাজে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশার মান আরও এক ধাপ নিচে নেমে গেল।’

প্রেক্ষাগৃহগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ‘সিনেমা হলগুলোর উচিত দর্শকদের জন্য সচেতন অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। স্ট্যান্ডার্ডের নিচে থাকা এমন নিম্নমানের সিনেমাকে প্রশ্রয় না দিয়ে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা।’

সূত্র: দ্যা হিন্দু

বাংলা৭১নিউজ/জেএস