সংসারের অভাব দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রান্ত দেবনাথকে। অসুস্থ বাবার সেলাই মেশিনের সামান্য আয়ে চার সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি প্রান্তের পড়াশোনার খরচের ভার যেন ক্রমশ ভারী হয়ে যাচ্ছিল।
সে জন্য নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের একটি ফার্মেসিতে কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থী প্রান্ত দেবনাথ। কাজের পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে প্রান্ত।
তবে ভালো ফল করেও থেমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয় তার সামনে।
কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানোর সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তের পাশে দাঁড়িয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন।
প্রান্তের সাফল্য ও আর্থিক সংকট নিয়ে গত ১৩ আগস্ট কালের কণ্ঠে ‘ফার্মেসি সামলে বইয়ে চোখ, প্রান্ত পেল জিপিএ ৫’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারিকুল ইসলামের।
পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে প্রান্তের কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার জন্য তার হাতে আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন ইউএনও।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘কালের কণ্ঠের সংবাদটি আমার নজর কাড়ে। এত পরিশ্রমী, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রের উচ্চশিক্ষা শুধু অর্থের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে—এটা হতে পারে না। এমন মেধাবীদের জন্য রাষ্ট্র সব সময় সহায়তা করতে প্রস্তুত।
আমি প্রান্তের সাফল্য কামনা করি।
সহায়তার চেক পেয়ে জিপিএ ৫ পাওয়া প্রান্ত দেবনাথ বলেন, ‘কালের কণ্ঠকে অনেক ধন্যবাদ। আমি তো রেজাল্টের পর চোখেমুখে অন্ধকার দেখছিলাম—কিভাবে কলেজে ভর্তি হব, কিভাবে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে সামনে এগোব, বুঝতে পারছিলাম না। কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা করেছেন। আজ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও স্যার সহায়তা করায় আমি দারুণ খুশি।’
প্রান্তের পরিবারের সদস্যরা জানান, আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সে কখনো হাল ছাড়েনি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছে প্রান্ত।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























