ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঝালমুড়ি বিক্রি করা দুই শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও Logo বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ Logo ৪ মাসে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিচারকের আদালত থেকে ১০০ মামলা সরানো হলো অন্যত্র Logo দীপু মনির স্বামী তৌফিক নাওয়াজের জানাজা সম্পন্ন Logo সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন, পিডিবির অফিস ভাঙচুর এলাকাবাসীর Logo রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় মনোহরগঞ্জে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার Logo হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ বারের মতো পেছাল Logo ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরে মাদারগঞ্জে চাচা ভাতিজাকে পাট ক্ষেতে জবাই করে হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে এবং যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় দেন। রায়ের সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন—সাখাওয়াত (২৩), সোহেল (২১), আল আমিন (২১), সাদ্দাম (২১), উজ্জ্বল (২১), অন্তর (২১) ও ফয়জুর (২৩)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন—চাঁন মিয়া (৩১), মো. জিয়ার (৩৬), শাহ আলম (২০), কাওসার‌ (২২), রিফাত (২২), সুমন (২১) ও মোস্তফা (৪০)।

তাদের সবার বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায়।

আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় ২০১৬ সালে ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে আসামিরা মহর আলী ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে আসামি সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের উপজেলার বানিয়াপাড়া চর এলাকায় একটি পাটখেতে নেওয়া হয়। সেখানে মহর আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করা হয়।

একইভাবে হত্যা করা হয় স্বপন মিয়াকেও। ঘটনার তিন দিন পর ১৯ মে পাটখেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে ও যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ঝালমুড়ি বিক্রি করা দুই শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরে মাদারগঞ্জে চাচা ভাতিজাকে পাট ক্ষেতে জবাই করে হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে এবং যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় দেন। রায়ের সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন—সাখাওয়াত (২৩), সোহেল (২১), আল আমিন (২১), সাদ্দাম (২১), উজ্জ্বল (২১), অন্তর (২১) ও ফয়জুর (২৩)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন—চাঁন মিয়া (৩১), মো. জিয়ার (৩৬), শাহ আলম (২০), কাওসার‌ (২২), রিফাত (২২), সুমন (২১) ও মোস্তফা (৪০)।

তাদের সবার বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায়।

আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় ২০১৬ সালে ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে আসামিরা মহর আলী ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে আসামি সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের উপজেলার বানিয়াপাড়া চর এলাকায় একটি পাটখেতে নেওয়া হয়। সেখানে মহর আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করা হয়।

একইভাবে হত্যা করা হয় স্বপন মিয়াকেও। ঘটনার তিন দিন পর ১৯ মে পাটখেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার করে ও যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ