আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর চাপ আরো বাড়িয়ে এবার সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট টোমোকে আকানে এবং শীর্ষ কৌঁসুলি আব্দুলায়ে সেয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আফগানিস্তান, ইরাক ও গাজায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার চেষ্টার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসি সভাপতি জাপানি নাগরিক টোমোকে আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক শীর্ষ বিচারিক আইনজীবী আব্দুলায়ে সেয়ের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন আওতাধীন এলাকায় তাদের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ব্যাংকিং সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।
এক কঠোর বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে আসছে—আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও রাজনীতিতে কলুষিত সংস্থা। তারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে।
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আইসিসির এই আগ্রাসন আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইসিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ‘আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত’ করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আইন প্রয়োগের কারণে যখন বিচারিক কর্তাব্যক্তিদের ওপর হুমকি নেমে আসে, তখন আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাই চূড়ান্ত ঝুঁকিতে পড়ে।
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কৌঁসুলি আব্দুলায়ে সেয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনের প্রধান আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নেতানিয়াহু লেখেন, আইসিসি একটি ক্যাঙ্গারু কোর্টে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ঢাকতে তারা আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিচ্ছে। বিচারিক সীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এই সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপকে আমি সাধুবাদ জানাই।
এর আগেও গত মাসে আইসিসির এই কার্যক্রম বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























