ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাফুফের সঙ্গে কোচের পরিকল্পনা মিলছে না

ফিফার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আশিয়ান কাপ ফুটবলে মঞ্চ থেকে ভারত সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ এসেছে। দেশের ফুটবলে একটা আনন্দের খবর মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই আনন্দের দিনে বাংলাদেশ দলের কোচ যুক্তরাষ্ট্রের থমাস ডুলির মুখে হাসি নেই। মনেও খুশি নেই। সাফের আগে আশিয়ান কাপের টুর্নামেন্ট মনে করা হয়েছিল দুর্দান্ত এক প্রস্তুতি। কিন্তু থমাস ভুলি দেখছেন ভিন্ন কিছু। তিনি সাফের আগে বাংলাদেশকে এমন কিছু ম্যাচ খেলাতে চেয়েছিলেন যেখানে বাংলাদেশ জিতবেই।

একাধিক ম্যাচ জিতে যদি সাফে মাঠে নামা যায় তাহলে ফুটবলারদের মনের জোরটা থাকবে উচ্চতায়। কিন্তু আশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেললে ম্যাচ জিততে পারবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কী কারণে আশঙ্কা রয়েছে সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন কোচ।

আশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ এসেছে, তাই বাফুফে নতুন কিছু খবর দেবেন সংবাদমাধ্যমকে; সেজন্য দুপুর থেকে বাফুফে ভবনে সংবাদ মাধ্যমের ভিড়। চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাঠানো হয় কোচকে। আশিয়ান কাপ নিয়ে কোচ সব কথা খুলেই বলেছেন। বাস্তবতা কী, সেটাও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম কথা হচ্ছে, কোচ থমাস ডুলি জানিয়েছেন, আশিয়ান কাপে খেলাটা এখনো শতভাগ নিশ্চিত না। যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে সেটিও বলতে পারি না। কাগজে কলমে নিশ্চিত হওয়া দরকার।’

ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আশিয়ান কাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর। চার সপ্তাহ পরই ফিফা উইনডো। এসব প্রসঙ্গ নিয়ে থমাস ডুলির কথা হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলো এটা একটা পরিস্থিতি। কারণ এখনো লিগ শুরু হয়নি। লিগের খেলার আগে চার সপ্তাহ প্রিসিজন ট্রেনিং হয়, সেটা হয়নি। ফুটবলাররা কেউ অনুশীলনের মধ্যে নেই। তিনি বলেন, ‘ক্লাবের ফুটবলাররা যদি ছয় সপ্তাহ প্রি-সিজন ট্রেনিং করে তাহলে কিছুটা ফিটনেস আসে। আর শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ-ছয়টি ম্যাচ কিংবা আটটি ম্যাচ খেলতে হয়।’

ডুলির প্রশ্ন আমরা কি সেই পরিস্থিতিতে আছি? কোচের কথায় স্পষ্ট, বাফুফের সঙ্গে কোচের পরিকল্পনা মিলছে না। কিরগিজস্তানের টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে আশিয়ান কাপে খেলাটা নিয়ে কোচকে ঢেঁকি গিলতে হচ্ছে। আশিয়ান কাপে একদিকে বড় দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এই টুর্নামেন্ট হতে মোটা অঙ্কের অর্থ পাবে, বাফুফে সেটি ছাড়তে রাজি না।

নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কম শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে ম্যাচ জিততে চেয়েছিলেন কোচ। তাতে ফুটবলাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকত। কোনো ম্যাচ হেরে যদি টুর্নামেন্ট খেলতে নামে তাহলে একটু হলেও মানসিক দৃঢ়তায় পিছিয়ে থাকেন ফুটবলাররা। পৃথিবীর সব জায়গায় ঘরোয়া লিগ মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশে কবে লিগ শুরু হবে। খেলোয়াড়রা খেপ খেলে বেড়াচ্ছেন। কোচ থমাস ডুলি বলেছেন, ‘যদি ফুটবলাররা লিগের মধ্যে থাকত। ছয়-সাতটা ম্যাচ খেলত, তখন আমরা তাদেরকে নিয়ে অনুশীলন করলে তখন সুবিধা হতো। জাতীয় দল তো খেলোয়াড়দের ফিট করার কাজ করে না। এটা অসম্ভব। কারণ আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় থাকে না।’

আফসোস নিয়ে কোচ বললেন, ‘জানি না ভাই, এখানে কবে লিগের খেলা শুরু হবে। কবে শেষ করবে, আমরা কবে ক্যাম্পে খেলোয়াড় পাব। তবে হ্যাঁ, এখানে একটা দিক খুবই ভালো, সেটা হচ্ছে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দ্রুত লিগ শেষ হয়ে যায়।’

কোচ চেয়েছিলে টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে চার সপ্তাহের জন্য অনুশীলন করতে। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। ক্লাব লিগ শুরু করবে। লিগের খেলা দেখে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়রা বাছাই করবেন কোচ, তার পর লিগ বন্ধ হবে, তখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসবেন ফুটবলাররা। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে কোচকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বাফুফের সঙ্গে কোচের পরিকল্পনা মিলছে না

আপডেট সময় ১২:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফিফার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আশিয়ান কাপ ফুটবলে মঞ্চ থেকে ভারত সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ এসেছে। দেশের ফুটবলে একটা আনন্দের খবর মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই আনন্দের দিনে বাংলাদেশ দলের কোচ যুক্তরাষ্ট্রের থমাস ডুলির মুখে হাসি নেই। মনেও খুশি নেই। সাফের আগে আশিয়ান কাপের টুর্নামেন্ট মনে করা হয়েছিল দুর্দান্ত এক প্রস্তুতি। কিন্তু থমাস ভুলি দেখছেন ভিন্ন কিছু। তিনি সাফের আগে বাংলাদেশকে এমন কিছু ম্যাচ খেলাতে চেয়েছিলেন যেখানে বাংলাদেশ জিতবেই।

একাধিক ম্যাচ জিতে যদি সাফে মাঠে নামা যায় তাহলে ফুটবলারদের মনের জোরটা থাকবে উচ্চতায়। কিন্তু আশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেললে ম্যাচ জিততে পারবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কী কারণে আশঙ্কা রয়েছে সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন কোচ।

আশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ এসেছে, তাই বাফুফে নতুন কিছু খবর দেবেন সংবাদমাধ্যমকে; সেজন্য দুপুর থেকে বাফুফে ভবনে সংবাদ মাধ্যমের ভিড়। চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাঠানো হয় কোচকে। আশিয়ান কাপ নিয়ে কোচ সব কথা খুলেই বলেছেন। বাস্তবতা কী, সেটাও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম কথা হচ্ছে, কোচ থমাস ডুলি জানিয়েছেন, আশিয়ান কাপে খেলাটা এখনো শতভাগ নিশ্চিত না। যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে সেটিও বলতে পারি না। কাগজে কলমে নিশ্চিত হওয়া দরকার।’

ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আশিয়ান কাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর। চার সপ্তাহ পরই ফিফা উইনডো। এসব প্রসঙ্গ নিয়ে থমাস ডুলির কথা হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলো এটা একটা পরিস্থিতি। কারণ এখনো লিগ শুরু হয়নি। লিগের খেলার আগে চার সপ্তাহ প্রিসিজন ট্রেনিং হয়, সেটা হয়নি। ফুটবলাররা কেউ অনুশীলনের মধ্যে নেই। তিনি বলেন, ‘ক্লাবের ফুটবলাররা যদি ছয় সপ্তাহ প্রি-সিজন ট্রেনিং করে তাহলে কিছুটা ফিটনেস আসে। আর শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ-ছয়টি ম্যাচ কিংবা আটটি ম্যাচ খেলতে হয়।’

ডুলির প্রশ্ন আমরা কি সেই পরিস্থিতিতে আছি? কোচের কথায় স্পষ্ট, বাফুফের সঙ্গে কোচের পরিকল্পনা মিলছে না। কিরগিজস্তানের টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে আশিয়ান কাপে খেলাটা নিয়ে কোচকে ঢেঁকি গিলতে হচ্ছে। আশিয়ান কাপে একদিকে বড় দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এই টুর্নামেন্ট হতে মোটা অঙ্কের অর্থ পাবে, বাফুফে সেটি ছাড়তে রাজি না।

নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কম শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে ম্যাচ জিততে চেয়েছিলেন কোচ। তাতে ফুটবলাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকত। কোনো ম্যাচ হেরে যদি টুর্নামেন্ট খেলতে নামে তাহলে একটু হলেও মানসিক দৃঢ়তায় পিছিয়ে থাকেন ফুটবলাররা। পৃথিবীর সব জায়গায় ঘরোয়া লিগ মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশে কবে লিগ শুরু হবে। খেলোয়াড়রা খেপ খেলে বেড়াচ্ছেন। কোচ থমাস ডুলি বলেছেন, ‘যদি ফুটবলাররা লিগের মধ্যে থাকত। ছয়-সাতটা ম্যাচ খেলত, তখন আমরা তাদেরকে নিয়ে অনুশীলন করলে তখন সুবিধা হতো। জাতীয় দল তো খেলোয়াড়দের ফিট করার কাজ করে না। এটা অসম্ভব। কারণ আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় থাকে না।’

আফসোস নিয়ে কোচ বললেন, ‘জানি না ভাই, এখানে কবে লিগের খেলা শুরু হবে। কবে শেষ করবে, আমরা কবে ক্যাম্পে খেলোয়াড় পাব। তবে হ্যাঁ, এখানে একটা দিক খুবই ভালো, সেটা হচ্ছে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দ্রুত লিগ শেষ হয়ে যায়।’

কোচ চেয়েছিলে টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে চার সপ্তাহের জন্য অনুশীলন করতে। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। ক্লাব লিগ শুরু করবে। লিগের খেলা দেখে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়রা বাছাই করবেন কোচ, তার পর লিগ বন্ধ হবে, তখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসবেন ফুটবলাররা। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে কোচকে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ