ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও এবং সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তার মরদেহের সঙ্গে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।
সেখানে আশিস লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। পাশাপাশি রাজনীতিতে আসার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশেই দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
তার সঙ্গে পাওয়া চিঠিটি সত্যিই আশিসের লেখা কি না, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।
চিঠিতে আশিস দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেও কোনো দুর্নীতিতে জড়াননি। রাজনৈতিক মতবিরোধ হলেও তা কখনো শত্রুতায় রূপ নেয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
চিঠিতে আশিসের বক্তব্য, দলের বিভিন্ন অন্যায় তিনি মেনে নিতে পারেননি, কিন্তু কখনো প্রতিবাদও করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, সারাজীবনে কোনো কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি।
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আশিস। তার দাবি, সেখানে সাধারণ সভা ছাড়া তার কোনো দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন না, চেক অনুমোদনের ক্ষমতাও তার ছিল না।
এমনকি প্ল্যান পাস বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
তাকে অপমান বা হেয় করার জন্য নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেছেন আশিস। এ কারণেই রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছে বলে মনে হয়েছে তার। তাই রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, তাদের নিজ নিজ পেশা ও কাজের মধ্যেই থাকা উচিত।
শিক্ষকতা জীবনের কথাও চিঠিতে স্মরণ করেছেন আশিস। তিনি জানিয়েছেন, সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন এবং কখনো ক্লাস ফাঁকি দেননি। বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন বলেও লিখেছেন।
চিঠির শেষদিকে পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। তবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি তিনি। কাউকে সরাসরি দায়ীও করেননি। তাকে কারা হেয় বা অপমান করার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও চিঠিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। সবশেষে তিনি লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন আশিস। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























