সরকারি নির্ধারিত ৬ লাখ টাকার বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত আরও ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জন্য একটি পরিদর্শন কক্ষ সংস্কারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) মো. রোকন উদ্দিন বাবুল।
এর আগে গত ২১ জুলাই ইত্তেফাক ডিজিটালে ‘সরকারি বরাদ্দ ৬ লাখ হলেও পরিদর্শন কক্ষ সাজাতে ১৬ লাখ ব্যয় করলেন এমপি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আহমেদ কবির আদনান মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ১৬ লাখ ব্যয় প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রকাশিত সংবাদে এমন একটি ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে যে, সরকারি বরাদ্দকৃত ৬ লাখ টাকার বাইরে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা এডিপি থেকে বরাদ্দ দেওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং সরকারি বিধিবহির্ভূত। অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, উপজেলা পরিষদে পরিদর্শন কক্ষ স্থাপন বা সংস্কারের ব্যয় উপজেলা প্রশাসনের এডিপি, রাজস্ব খাত অথবা অন্য বৈধ উৎস থেকে নির্বাহ করা যাবে।’
অর্থাৎ সরকারি প্রজ্ঞাপনে এডিপি তহবিল ব্যবহারের সুস্পষ্ট অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রেখে সংবাদটি এমনভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পাঠকের কাছে একটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, সংবাদে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি আদিতমারী উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষের নয়; বরং মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের ব্যক্তিগত বাসভবনে তোলা একটি ছবি। একটি ভিন্ন স্থানের ছবি পরিদর্শন কক্ষের ছবি হিসেবে প্রকাশ করা কেবল তথ্যগত ভুল নয়, বরং সংবাদটিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে উপস্থাপনের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। এছাড়াও কক্ষে ব্যবহৃত সকল আসবাবপত্র দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বাজারমূল্যে ক্রয় করা হয়েছে, যার মূল্য সারা দেশেই অভিন্ন।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রকাশিত সংবাদটিতে কোনো ধরনের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও তথ্য গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, গত ২১ এপ্রিল এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব জিয়ায়ুর রহমান একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওয়াশরুমসহ উন্নতমানের আসবাবপত্র দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জন্য একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কিন্তু স্থানীয় সাংসদ লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) রোকন উদ্দিন বাবুল ওই পরিদর্শন কক্ষ মেরামত ও আসবাবপত্র বাবদ ৬ লাখ টাকার বাইরে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত বরাদ্দ থকে ওই কক্ষটি মেরামতের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এ নিয়ে মোট ১৬ লাখ টাকা ওই কক্ষের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। এ বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বরাদ্দের অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখানে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত প্রকাশ করা কিংবা কাউকে হেয় করার জন্য সংবাদটি প্রকাশ করা হয়নি।
মূলত ‘পরিদর্শন কক্ষের’ ছবি বোঝাতে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘পরিদর্শন কক্ষে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।’ প্রকাশিত ছবিটি ‘১৬ লাখ টাকায় নির্মিত পরিদর্শন কক্ষ’ তা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। যা একটি উপলব্ধগত ভুল।
এছাড়াও প্রকাশিত সংবাদের কোথাও বলা হয়নি যে, উপজেলা প্রশাসনের এডিপি, রাজস্ব খ্যাত অথবা অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে না।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















