ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান, বিচারেও মুখোমুখি হতে বললেন সোহেল তাজ Logo মার্কিন শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা ব্রাজিলের Logo রংপুরে গ্যারেজ মালিক হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রাক্তন স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo দাপট দেখিয়ে চালকের আসনে বাংলাদেশ, জয়ের আশা ছাড়ছে না অস্ট্রেলিয়া Logo ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা Logo আমিরাতের দুই জাহাজে হামলা, ইরানকে দায়ী করল আবুধাবি Logo ভারতের নাম প্রত্যাহার, আসিয়ান কাপে খেলার পথে বাংলাদেশ Logo ৯০-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া: রিজভী Logo ভারতকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে পাকিস্তানিরা, তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ফিলিস্তিনও Logo শোকের পাথর বুকে নিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি

ডিআর কঙ্গোতে আরো ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরো ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে বাস-উয়েলে প্রদেশে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশটির মোট ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া বৃহস্পতিবার জানান, ওই ব্যক্তি আগে ইবোলা আক্রান্ত ওত-উয়েলে প্রদেশের ইসিরো থেকে বাস-উয়েলের রাজধানী বুটায় যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, কঙ্গোর এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এক দশকেরও বেশি আগে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্দিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মারা গেছেন।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ দ্রুত বেড়েছে।

এবারের প্রাদুর্ভাব এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, যখন কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বেতন না পাওয়ায় ধর্মঘট করছেন। পাশাপাশি রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার শিকার মানুষের ক্ষোভ এবং ইবোলা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশের নিজি চিকিৎসা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে যান।

তাদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো স্পষ্ট নয়। ১৫ মে কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাদুর্ভাবটি আরো কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আগে থেকে পর্যবেক্ষণে থাকা সংস্পর্শের তালিকায় ছিলেন না। ফলে রোগটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। আফ্রিকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি এ সপ্তাহে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটিকে তাড়া করছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের থেকে এগিয়ে আছে।’

ইবোলা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে।

দূষিত বিছানাপত্র, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। রোগটি গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী। কঙ্গোর আক্রান্ত পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে গত মাসে বুন্দিবুগিও ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান, বিচারেও মুখোমুখি হতে বললেন সোহেল তাজ

ডিআর কঙ্গোতে আরো ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

আপডেট সময় ০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরো ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে বাস-উয়েলে প্রদেশে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশটির মোট ছয়টি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া বৃহস্পতিবার জানান, ওই ব্যক্তি আগে ইবোলা আক্রান্ত ওত-উয়েলে প্রদেশের ইসিরো থেকে বাস-উয়েলের রাজধানী বুটায় যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, কঙ্গোর এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এক দশকেরও বেশি আগে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্দিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মারা গেছেন।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ দ্রুত বেড়েছে।

এবারের প্রাদুর্ভাব এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, যখন কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বেতন না পাওয়ায় ধর্মঘট করছেন। পাশাপাশি রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকি, দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার শিকার মানুষের ক্ষোভ এবং ইবোলা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশের নিজি চিকিৎসা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে যান।

তাদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো স্পষ্ট নয়। ১৫ মে কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাদুর্ভাবটি আরো কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আগে থেকে পর্যবেক্ষণে থাকা সংস্পর্শের তালিকায় ছিলেন না। ফলে রোগটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। আফ্রিকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি এ সপ্তাহে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটিকে তাড়া করছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের থেকে এগিয়ে আছে।’

ইবোলা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে।

দূষিত বিছানাপত্র, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। রোগটি গুরুতর এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী। কঙ্গোর আক্রান্ত পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে গত মাসে বুন্দিবুগিও ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ