ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo একই দিনে আদালতে সাতক্ষীরার আলোচিত ৩ নজরুল ইসলাম, দুজন কারাগারে Logo জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় Logo বঙ্গভবনসহ ৫ দফতরে সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশ Logo বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ Logo খালেদা জিয়ার উপহারের বাস পুনরায় নামকরণ করল ছাত্রদল Logo ব্রিকস ও দ্বিপক্ষীয় সফরে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: ভারত Logo যুদ্ধাপরাধের মামলায় বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড Logo উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই চীনা রকেটের ভয়াবহ বিস্ফোরণ Logo ‘সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী’ Logo রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সুইডিশ সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

যুদ্ধাপরাধের মামলায় বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই মামলায় আসাদের আপন ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতিফ নাজিবসহ ৮ কর্মকর্তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে গেলে আসাদ পরিবারসহ সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তার অনুপস্থিতিতেই এরপর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার শুরু করে।

দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসাদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় দেশটির সাবেক শাসকগোষ্ঠীর কোনো শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম মৃত্যুদণ্ড। তবে এই রায় কার্যকরের জন্য সিরিয়া নতুন সরকার মস্কো থেকে বাশার আল-আসাদকে আদৌ ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিন দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদকে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা, বেআইনি আটক এবং অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন।

অন্যদিকে আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, গণ হত্যা, নির্যাতন এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে আদালত। এই দমন-পীড়ন থেকেই পরবর্তীতে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।

আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আসাদ পরিবারের অনান্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তিনি পালাতে পারেননি। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নাজিব।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— বাশার আল-আসাদের ছোট ভাই ও সেনাবাহিনীর এলিট ‘ফোর্থ আর্মার্ড ডিভিশন’-এর সাবেক প্রধান মাহের আল-আসাদ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ ফাহদ জাসেম আল-ফ্রেইজ, আসাদ সরকারের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়মান আইয়ুব, সাবেক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা লুই আলি আল-আলি, সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নে যুক্ত অন্যতম শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কুসাই ইব্রাহিম মাহিওব, দক্ষিণাঞ্চলীয় গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান ওয়াফিক সালেহ নাসের এবং সরকারের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা তালাল ফারিস আল-আসিমী।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক এই মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা- সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (এসওএইচআর) তথ্যমতে, সিরিয়ার গণহত্যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সিরিয়াজুড়ে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪ বছরের এই দীর্ঘ সংঘাত ও গণহত্যায় ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়।

সূত্র: আলজাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

একই দিনে আদালতে সাতক্ষীরার আলোচিত ৩ নজরুল ইসলাম, দুজন কারাগারে

যুদ্ধাপরাধের মামলায় বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই মামলায় আসাদের আপন ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতিফ নাজিবসহ ৮ কর্মকর্তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে গেলে আসাদ পরিবারসহ সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তার অনুপস্থিতিতেই এরপর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার শুরু করে।

দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসাদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় দেশটির সাবেক শাসকগোষ্ঠীর কোনো শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথম মৃত্যুদণ্ড। তবে এই রায় কার্যকরের জন্য সিরিয়া নতুন সরকার মস্কো থেকে বাশার আল-আসাদকে আদৌ ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিন দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদকে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা, বেআইনি আটক এবং অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন।

অন্যদিকে আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, গণ হত্যা, নির্যাতন এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে আদালত। এই দমন-পীড়ন থেকেই পরবর্তীতে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।

আসাদের অধীনে দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আসাদ পরিবারের অনান্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তিনি পালাতে পারেননি। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নাজিব।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— বাশার আল-আসাদের ছোট ভাই ও সেনাবাহিনীর এলিট ‘ফোর্থ আর্মার্ড ডিভিশন’-এর সাবেক প্রধান মাহের আল-আসাদ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ ফাহদ জাসেম আল-ফ্রেইজ, আসাদ সরকারের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়মান আইয়ুব, সাবেক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা লুই আলি আল-আলি, সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নে যুক্ত অন্যতম শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কুসাই ইব্রাহিম মাহিওব, দক্ষিণাঞ্চলীয় গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান ওয়াফিক সালেহ নাসের এবং সরকারের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা তালাল ফারিস আল-আসিমী।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক এই মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা- সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (এসওএইচআর) তথ্যমতে, সিরিয়ার গণহত্যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সিরিয়াজুড়ে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪ বছরের এই দীর্ঘ সংঘাত ও গণহত্যায় ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়।

সূত্র: আলজাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/জেএস