বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং পিপিপি(সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) ভিত্তিক সম্ভাবনাময় প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আজ সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনায় মিলিত হয় জাপানের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কোম্পানি লিমিটেড এবং স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।
স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান Mr. Sayeed Ibrahim Ahmed এবং Miyagawa Kensetsu co; ltd-এর Director/overseas Mr. Toji Nishida এই ০৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকের সূচনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ আগত প্রতিনিধি দলকে আন্তরিক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে আমূল পরিবর্তন হচ্ছে সেই চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো যুগান্তকারী প্রকল্পগুলোর সাফল্য ও এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব তুলে ধরেন এবং সফল রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১ম পিপিপি ভিত্তিক প্রকল্প, ঢাকাবাসী ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের আংশিক সুফল পেতে শুরু করেছে এবং বাকি অংশের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
সেতু সচিব বলেন, মননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করতে এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার এখন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশেষকরে সেতু বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক তদারকি, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে। তাঁরা দেশের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাক্ষাৎকালে মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কোম্পানি লিমিটেড এর Director/overseas Mr. Toji Nishida বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদীয়মান অর্থনীতির গতিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম টেকসই ও আশাব্যঞ্জক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্ট্যালিয়ন গ্রুপের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাংলাদেশের ভোলা-বরিশাল, শরীয়তপুর-চাঁদপুর, ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রতিনিধি দলের এই আগ্রহকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(SDG) অর্জনে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, যানজটমুক্ত ও পরিবেশ বান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সম্পন্ন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রকল্পগুলোর গতি ও মান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি পিপিপি ভিত্তিক প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগ বান্ধব নীতিমালা এবং বিনিয়োগের পূর্ণ নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন। একই সাথে তিনি জানান, বিনিয়োগের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করতে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের সমাপনীতে উভয় পক্ষ সম্মত হয় যে, বাংলাদেশে পিপিপি মডেলের আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের কারিগরি, আইনগত ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে আরও কয়েক দফায় বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বলে সচিব মহোদয় আশ্বস্ত করেন। তিনি বিনিয়োগের শর্তাবলি এবং ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে একটি MILT জাপান এবং বাংলাদেশের PPP কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অনুরোধ জানান যা পর্যালোচনার পর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















