ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে না Logo এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: ফলাফল তোমার পরিচয় নয় Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা চলছে : রুহুল কবির রিজভী Logo ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ব্যবহারের জন্য ১৭০০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল Logo সুনামগঞ্জে এমপির গলায় রামদা ধরে দলিলে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ, তিন সৎ ভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর কেন? স্পষ্ট বার্তা দিলেন তথ্য উপদেষ্টা Logo কেন রাতারাতি পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল আমেরিকা Logo ইনফান্তিনোকে সরালে ফিফার বড় ভুল হবে: ট্রাম্প Logo বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি Logo ছুটিকে বিদায় জানিয়ে দ্রুতই রিয়ালের অনুশীলনে যোগ দিলেন এমবাপে

কেন রাতারাতি পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এসব কারণে বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীনসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ধারাবাহিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এখন ভিসা বাতিলের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না।

হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ। দপ্তরের উল্লেখ করা কয়েকটি ঘটনায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানব পাচার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। অভিযোগ, এসব দম্পতি সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত বছর জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

দপ্তরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা বলা হয়েছিল।

এদিকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

তবে অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির সুযোগ তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে না

কেন রাতারাতি পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল আমেরিকা

আপডেট সময় ০১:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এসব কারণে বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীনসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ধারাবাহিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এখন ভিসা বাতিলের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না।

হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ। দপ্তরের উল্লেখ করা কয়েকটি ঘটনায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানব পাচার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। অভিযোগ, এসব দম্পতি সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত বছর জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

দপ্তরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা বলা হয়েছিল।

এদিকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

তবে অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির সুযোগ তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/এবি