ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের আলাদা করে তোলে যে অভ্যাস Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লি গেলেন ভারতীয় হাইকমিশনার Logo প্রধানমন্ত্রীকে কাশ্মীরি ‘কালো’ শাল : ফ্যাশন নাকি ডিপ্লোম্যাসির চতুর চাল! Logo ফিলিপাইনে ভারী বৃষ্টিপাতে ১৬ জনের প্রাণহানি Logo মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ‘জাতির মূল্যবান বন্ধু’ বললেন তারেক রহমান Logo গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি মেসির আইনজীবীদের Logo বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট Logo দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo ‎দেশের রিজার্ভ আরও বাড়ল Logo ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে: রেলমন্ত্রী

দুদিন পরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১২ আগস্ট। মহাজাগতিক এই দৃশ্যের সরাসরি সাক্ষী হতে যাচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ।

সোমবার (১০ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট থেকে শুরু করে চাঁদের ছায়া আর্কটিক অঞ্চল থেকে দ্রুতগতিতে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে সূর্যকে ঢেকে ফেলবে সম্পূর্ণরূপে। বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা স্থায়ী হবে সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।  

১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারবেন।

পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার একাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামান্য অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। সামগ্রিকভাবে বিশ্বের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ বা প্রতি আটজনের মধ্যে প্রায় একজন সূর্যকে অন্তত আংশিকভাবে আবৃত অবস্থায় দেখতে পাবেন।

উল্লেখ্য, যখন একটি মহাজাগতিক বস্তু অন্য একটি বস্তুর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন গ্রহণ ঘটে। সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান নেয় চাঁদ এবং এটি সূর্যের আলো আটকে দেয়।

সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী থেকে এই দুটি গ্রহ-নক্ষত্রের ব্যাস বা আকৃতি প্রায় একই রকম দেখায়। আর এ কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হওয়া সম্ভব হয়।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র মতে, পৃথিবীতে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এই হিসাবের মধ্যে আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস এবং সংকর—এই চার ধরনের গ্রহণই অন্তর্ভুক্ত। তবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশ বিরল। প্রতি এক শতাব্দীতে গড়ে ৬৬ বার বা মোটামুটি প্রতি দেড় বছরে একবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে।

যেসব দেশ থেকে দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ

আগামী ১২ আগস্ট স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালের একাংশের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন।

তবে, আংশিক সূর্যগ্রহণ অনেক বেশি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে দৃশ্যমান হবে। ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা থেকে সন্ধ্যায় একটি গভীর আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে বহু স্থানে সূর্য আংশিক আবৃত অবস্থাতেই অস্ত যাবে। প্যারিসে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ, লন্ডনে ৯১ শতাংশ এবং বার্লিনে ৮৫ শতাংশ ঢাকা পড়বে।

উত্তর আফ্রিকাকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আলজিয়ার্সে প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং কাসাব্লাঙ্কায় প্রায় ৮৭ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়বে, তবে দুটি ক্ষেত্রেই গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই সূর্য অস্ত যাবে।

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে সূর্যাস্ত নিয়ে এমন কোনো সমস্যা নেই, কারণ সেখানে গ্রহণটি সকালে ও দুপুরে ঘটবে। তবে, উত্তর আমেরিকা পূর্ণগ্রাস পথ থেকে অনেক দূরে থাকায় সেখানে সূর্যের সামান্য অংশই কেবল আবৃত হতে দেখা যাবে। কানাডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেন্ট জনসে প্রায় ৫৩ শতাংশ গ্রহণ দেখা যাবে। এ ছাড়া মন্ট্রিল ১৮ শতাংশ এবং টরন্টো মাত্র ৮ শতাংশ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের আলাদা করে তোলে যে অভ্যাস

দুদিন পরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

আপডেট সময় ০৯:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে আগামী ১২ আগস্ট। মহাজাগতিক এই দৃশ্যের সরাসরি সাক্ষী হতে যাচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ।

সোমবার (১০ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট থেকে শুরু করে চাঁদের ছায়া আর্কটিক অঞ্চল থেকে দ্রুতগতিতে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের ওপর দিয়ে সূর্যকে ঢেকে ফেলবে সম্পূর্ণরূপে। বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা স্থায়ী হবে সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।  

১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারবেন।

পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার একাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামান্য অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। সামগ্রিকভাবে বিশ্বের প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ বা প্রতি আটজনের মধ্যে প্রায় একজন সূর্যকে অন্তত আংশিকভাবে আবৃত অবস্থায় দেখতে পাবেন।

উল্লেখ্য, যখন একটি মহাজাগতিক বস্তু অন্য একটি বস্তুর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন গ্রহণ ঘটে। সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান নেয় চাঁদ এবং এটি সূর্যের আলো আটকে দেয়।

সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী থেকে এই দুটি গ্রহ-নক্ষত্রের ব্যাস বা আকৃতি প্রায় একই রকম দেখায়। আর এ কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হওয়া সম্ভব হয়।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র মতে, পৃথিবীতে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এই হিসাবের মধ্যে আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস এবং সংকর—এই চার ধরনের গ্রহণই অন্তর্ভুক্ত। তবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশ বিরল। প্রতি এক শতাব্দীতে গড়ে ৬৬ বার বা মোটামুটি প্রতি দেড় বছরে একবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে।

যেসব দেশ থেকে দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ

আগামী ১২ আগস্ট স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালের একাংশের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন।

তবে, আংশিক সূর্যগ্রহণ অনেক বেশি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে দৃশ্যমান হবে। ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা থেকে সন্ধ্যায় একটি গভীর আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে বহু স্থানে সূর্য আংশিক আবৃত অবস্থাতেই অস্ত যাবে। প্যারিসে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ, লন্ডনে ৯১ শতাংশ এবং বার্লিনে ৮৫ শতাংশ ঢাকা পড়বে।

উত্তর আফ্রিকাকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আলজিয়ার্সে প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং কাসাব্লাঙ্কায় প্রায় ৮৭ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়বে, তবে দুটি ক্ষেত্রেই গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই সূর্য অস্ত যাবে।

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে সূর্যাস্ত নিয়ে এমন কোনো সমস্যা নেই, কারণ সেখানে গ্রহণটি সকালে ও দুপুরে ঘটবে। তবে, উত্তর আমেরিকা পূর্ণগ্রাস পথ থেকে অনেক দূরে থাকায় সেখানে সূর্যের সামান্য অংশই কেবল আবৃত হতে দেখা যাবে। কানাডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেন্ট জনসে প্রায় ৫৩ শতাংশ গ্রহণ দেখা যাবে। এ ছাড়া মন্ট্রিল ১৮ শতাংশ এবং টরন্টো মাত্র ৮ শতাংশ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস