দীর্ঘ দুই দশক ধরে উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিল্পায়নের ধীরগতি এবং কর্মসংস্থানের সংকটে পিছিয়ে ছিল উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও গাইবান্ধা। এ অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের এই দাবির প্রেক্ষিতে বগুড়াকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়নে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের এই পাঁচ জেলার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বগুড়াকে পৃথক বিভাগ করার প্রস্তাবনায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বগুড়াকে বিভাগ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পাঁচ জেলার সমন্বয়ে মিটিংয়ে গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সমস্ত এমপি এবং মন্ত্রীরা এসে সমর্থন দিয়ে গেছেন। যেন বগুড়াতে নতুন একটা বিভাগ হয়। চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট, বরিশাল বা ফরিদপুরের মতো বিভাগ থাকতে পারে, তবে উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে নিয়ে বগুড়া অবশ্যই একটা বিভাগ হতে পারে।
বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী চার জেলার সংসদ সদস্যরা কোনো আপত্তি ছাড়াই স্বেচ্ছায় সমর্থন দেওয়ায় এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাস্তবায়নে বেশ সহজ হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী শুধু বিভাগ নয়, বগুড়ার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু গাবতলী-সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা ঢাকার সঙ্গে সময় ও অর্থনৈতিক দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনবে। এছাড়া শহরের মধ্য দিয়ে চলা রেললাইনের যানজট নিরসনে ওপর দিয়ে ওভারপাস সড়ক এবং নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। যার অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বগুড়া জেলার থানাগুলোর জন্য অন্তত ২০টি নতুন পুলিশের গাড়ি সরবরাহের প্রক্রিয়া চড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে গাবতলী ও আদমদীঘির পাশাপাশি বাকি ১০টি থানাকেও ‘মডেল থানা’য় রূপান্তর করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডিএ) খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং বগুড়া সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন পুলিশিং ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ এগোচ্ছে।
উন্নয়ন কাজের সার্বিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পিছিয়ে পড়া বগুড়ার পরিকল্পিত রূপরেখা তৈরিতে একটি ‘সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন ও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের ২০০৮ সালের পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা) সংশোধন করে নতুন ঠিকাদারদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জারি হবে জানিয়ে নতুন বিধি না আসা পর্যন্ত আপাতত কোনো উন্নয়ন কাজের টেন্ডারে না যেতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, সংরক্ষিত (বগুড়া-জয়পুরহাট) আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা৭১নিউজ/এবি























