ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ডেমরা থেকে পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার Logo এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইইউ ও জি-৭৭ Logo বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে সরকার: অর্থমন্ত্রী Logo ব্রয়লার-পাঙ্গাস-তেলাপিয়ার দাম বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস Logo একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম Logo পেলের স্মারক বিক্রির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড Logo সেই ঐতিহাসিক ছবিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের বিজ্ঞাপন Logo যে অভ্যাসগুলো মেনে চললে বর্ষায় সুস্থ থাকবেন Logo বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবশেষ হারের ম্যাচের রেফারি এবার ফাইনালে

ব্রয়লার-পাঙ্গাস-তেলাপিয়ার দাম বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

স্বল্প আয়ের মানুষের প্রোটিনের প্রধান ভরসা ব্রয়লার মুরগি ও পাঙ্গাস মাছের দাম আরো বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, কই ও মাগুর মাছের দামও বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। পাঙ্গাস মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মনিপুরী পাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গরুর মাংস বা ভালো মাছ কেনার সামর্থ্য নেই। তাই পরিবারের জন্য ব্রয়লার মুরগি আর পাঙ্গাসই কিনতাম। এখন এগুলোর দামও যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারে আসা গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, ‘সবজির দাম কিছুটা কমলেও মুরগি আর মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোনো লাভ হচ্ছে না। পরিবারের পুষ্টির কথা চিন্তা করলে এসব কিনতেই হয়।’

বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারেই মুরগির দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে।’

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা শাহীন মিয়া বলেন, ‘পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন ও খাদ্য খরচ বাড়ার কারণে মাছের দামও বেড়েছে। ক্রেতারা দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আমাদের কিছুই করার নেই।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রোটিনজাত পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা জরুরি। অন্যথায় ব্রয়লার মুরগি ও কম দামের মাছের ওপর নির্ভরশীল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেমরা থেকে পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার

ব্রয়লার-পাঙ্গাস-তেলাপিয়ার দাম বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

স্বল্প আয়ের মানুষের প্রোটিনের প্রধান ভরসা ব্রয়লার মুরগি ও পাঙ্গাস মাছের দাম আরো বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, কই ও মাগুর মাছের দামও বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। পাঙ্গাস মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মনিপুরী পাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গরুর মাংস বা ভালো মাছ কেনার সামর্থ্য নেই। তাই পরিবারের জন্য ব্রয়লার মুরগি আর পাঙ্গাসই কিনতাম। এখন এগুলোর দামও যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারে আসা গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, ‘সবজির দাম কিছুটা কমলেও মুরগি আর মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোনো লাভ হচ্ছে না। পরিবারের পুষ্টির কথা চিন্তা করলে এসব কিনতেই হয়।’

বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারেই মুরগির দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে।’

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা শাহীন মিয়া বলেন, ‘পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন ও খাদ্য খরচ বাড়ার কারণে মাছের দামও বেড়েছে। ক্রেতারা দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আমাদের কিছুই করার নেই।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রোটিনজাত পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা জরুরি। অন্যথায় ব্রয়লার মুরগি ও কম দামের মাছের ওপর নির্ভরশীল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস