ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখতে বা বাড়াতে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও দিনের শুরুতে ২ শতাংশ কমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

একই সময় মার্কিন সোনার ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মূলত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে যেন লোহিত সাগরের তেল পরিবহনের পথ বাব আল-মান্ডেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথিদেরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ইরান। এরপরই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ স্তরে রাখতে পারে বলে বাজারে জোরালো ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করা বেশি লাভজনক মনে করছেন। কারণ স্বর্ণ নিয়মিত মুনাফা দেয় না, তাই বন্ডের ইল্ড বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ চলতি সপ্তাহে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করলেও তা কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণত ডলারে সোনার লেনদেন হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং এর চাহিদা কমে যায়।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

আপডেট সময় ০৯:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখতে বা বাড়াতে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও দিনের শুরুতে ২ শতাংশ কমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

একই সময় মার্কিন সোনার ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মূলত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে যেন লোহিত সাগরের তেল পরিবহনের পথ বাব আল-মান্ডেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথিদেরকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ইরান। এরপরই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ স্তরে রাখতে পারে বলে বাজারে জোরালো ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করা বেশি লাভজনক মনে করছেন। কারণ স্বর্ণ নিয়মিত মুনাফা দেয় না, তাই বন্ডের ইল্ড বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ চলতি সপ্তাহে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করলেও তা কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণত ডলারে সোনার লেনদেন হয়, তাই ডলার শক্তিশালী হলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং এর চাহিদা কমে যায়।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস