ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঝেতে স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ-ছুরিকাহত ছেলে, বিছানায় মোবাইলে ব্যস্ত মা

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বহুতল আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ ও তার আট বছর বয়সী ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় একই ঘরের বিছানায় শুয়ে স্বাভাবিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে শিশুটির মাকে, যিনি নিজেও পেশায় একজন চিকিৎসক। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোন্নান্নাভার (৪৫)। তিনি একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছিলেন। তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ।

হুব্বল্লি-ধারওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪৩৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টস কমপ্লেক্সে’ এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বাইরের কোনো মানুষের প্রবেশের আলামত মেলেনি। উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই ফ্ল্যাটে তখন কেবল এই দম্পতি ও তাদের সন্তানই ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে পরিবারের সদস্যরা ডা. কিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রতিবারই তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা ফোন ধরে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছিলেন। কখনো বলছিলেন তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনো বলছিলেন তিনি বাইরে গেছেন। স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা সরাসরি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. কিরণের গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক প্রাণঘাতী আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অন্য একটি কক্ষে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে ছটফট করছিল তাঁদের আট বছর বয়সী সন্তান। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, আহত এই শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. কিরণের শার্টহীন রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। অন্য পাশে আহত শিশুটি পড়ে থাকলেও একই ঘরের বিছানায় শুয়ে নির্বিকারভাবে মোবাইল স্ক্রল করছেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ ইতিমধ্যে ডা. প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আটকের পর প্রিয়াঙ্কা মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত ও অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

এই নৃশংস ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সাবার্বান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ডা. কিরণের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেঝেতে স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ-ছুরিকাহত ছেলে, বিছানায় মোবাইলে ব্যস্ত মা

আপডেট সময় ০৯:৫০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বহুতল আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ ও তার আট বছর বয়সী ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় একই ঘরের বিছানায় শুয়ে স্বাভাবিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে শিশুটির মাকে, যিনি নিজেও পেশায় একজন চিকিৎসক। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোন্নান্নাভার (৪৫)। তিনি একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছিলেন। তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ।

হুব্বল্লি-ধারওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪৩৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টস কমপ্লেক্সে’ এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বাইরের কোনো মানুষের প্রবেশের আলামত মেলেনি। উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই ফ্ল্যাটে তখন কেবল এই দম্পতি ও তাদের সন্তানই ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে পরিবারের সদস্যরা ডা. কিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রতিবারই তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা ফোন ধরে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছিলেন। কখনো বলছিলেন তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনো বলছিলেন তিনি বাইরে গেছেন। স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা সরাসরি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. কিরণের গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক প্রাণঘাতী আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অন্য একটি কক্ষে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে ছটফট করছিল তাঁদের আট বছর বয়সী সন্তান। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, আহত এই শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. কিরণের শার্টহীন রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। অন্য পাশে আহত শিশুটি পড়ে থাকলেও একই ঘরের বিছানায় শুয়ে নির্বিকারভাবে মোবাইল স্ক্রল করছেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ ইতিমধ্যে ডা. প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আটকের পর প্রিয়াঙ্কা মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত ও অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

এই নৃশংস ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সাবার্বান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ডা. কিরণের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস