বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। গত মঙ্গলবার সোনার দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে একদিন পরেই বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামে ফের পতন ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৮টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৫ দশমিক ১২ ডলারে।
অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার মূল্য এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
জ্বালানি তেলের প্রভাব ও ভূরাজনীতি
বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং নতুন করে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকির পর তেলের বাজারে এই চাঙ্গাভাব দেখা দেয়। তেলের দাম বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ওয়ানডার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন মূল্যস্ফীতির আগের তথ্যের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তেলের দাম বাড়ছে এবং সোনার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ করা হয়। তবে উচ্চ সুদহারের পরিবেশে অলাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের শীর্ষ কর্মকর্তারা জুনের কম মূল্যস্ফীতির তথ্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সুদহার কমানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা আরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান। বুধবারই যুক্তরাষ্ট্রের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) বা পাইকারি মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এই তথ্য থেকে মার্কিন মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাব্যতা এখন ৫৮ শতাংশ, যা আগের রিপোর্টের আগে ছিল ৭৬ শতাংশ। তবে আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদহার বাড়ার সম্ভাব্যতা এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
কমেছে অন্য ধাতুর দামও
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৮ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৬২৮ দশমিক ০৬ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১১ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

























