ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শপথের পর এমপি সরোয়ারের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

দীর্ঘ পাঁচ মাসের আইনি লড়াই, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে শপথের পর দেওয়া এক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ভোটে জয়ী হয়েও ফলাফল না পাওয়া, আদালতের বারান্দায় কাটানো দিনগুলো এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেন।

সরোয়ার আলমগীর লিখেছেন, ‘ভোট হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি। গণনাও হয়েছিল সেদিনই। প্রায় আশি হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম আমি। তাও ফলাফল পাইনি। জিতেও তাই জেতা হয়নি আমার।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে বসে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার কথা থাকলেও তাকে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে। প্রতিটি রাত কেটেছে উদ্বেগে, প্রতিটি দিন হতাশায়। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।’

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘মিথ্যের জাল এত শক্তিশালী ছিল যে মাঝে মাঝে দম আটকে আসত। মনে হতো, এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল। তবুও ভেঙে পড়িনি। দেশের আইনের প্রতি আমার শেষ একটা বিশ্বাস ছিল। জানতাম, সৃষ্টিকর্তা দেখছেন।’

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে আইনি জটিলতা কাটার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে আজ সেই পবিত্র রায় পেলাম। মেঘ কেটে সূর্য উঠল। ষড়যন্ত্রকারীরা আমার জয়কে কিছুটা বিলম্বিত করতে পেরেছে ঠিকই। কিন্তু আমার ভাগ্য থেকে তা কেড়ে নিতে পারেনি। আজ শপথ নিলাম।’

দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক সময়ে যারা হাত ছাড়েননি, তাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ফটিকছড়ির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় ফটিকছড়িবাসী, আপনারা আমাকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছেন।’

আইনি লড়াই শেষে শপথ
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ অনুযায়ী শপথগ্রহণ শেষে তিনি সংসদ সচিবের কক্ষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

যেভাবে আটকে ছিল শপথ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন জামায়াত প্রার্থী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখলেও ঋণসংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে গণনা শেষে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তার গেজেট প্রকাশ ও শপথ দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অবশেষে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে তার প্রার্থিতা ও নির্বাচনের ফল বৈধ ঘোষণা হলে সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শপথের পর এমপি সরোয়ারের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

আপডেট সময় ০৩:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ পাঁচ মাসের আইনি লড়াই, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে শপথের পর দেওয়া এক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ভোটে জয়ী হয়েও ফলাফল না পাওয়া, আদালতের বারান্দায় কাটানো দিনগুলো এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেন।

সরোয়ার আলমগীর লিখেছেন, ‘ভোট হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি। গণনাও হয়েছিল সেদিনই। প্রায় আশি হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম আমি। তাও ফলাফল পাইনি। জিতেও তাই জেতা হয়নি আমার।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে বসে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার কথা থাকলেও তাকে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে। প্রতিটি রাত কেটেছে উদ্বেগে, প্রতিটি দিন হতাশায়। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।’

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘মিথ্যের জাল এত শক্তিশালী ছিল যে মাঝে মাঝে দম আটকে আসত। মনে হতো, এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল। তবুও ভেঙে পড়িনি। দেশের আইনের প্রতি আমার শেষ একটা বিশ্বাস ছিল। জানতাম, সৃষ্টিকর্তা দেখছেন।’

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে আইনি জটিলতা কাটার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে আজ সেই পবিত্র রায় পেলাম। মেঘ কেটে সূর্য উঠল। ষড়যন্ত্রকারীরা আমার জয়কে কিছুটা বিলম্বিত করতে পেরেছে ঠিকই। কিন্তু আমার ভাগ্য থেকে তা কেড়ে নিতে পারেনি। আজ শপথ নিলাম।’

দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক সময়ে যারা হাত ছাড়েননি, তাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ফটিকছড়ির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় ফটিকছড়িবাসী, আপনারা আমাকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছেন।’

আইনি লড়াই শেষে শপথ
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ অনুযায়ী শপথগ্রহণ শেষে তিনি সংসদ সচিবের কক্ষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

যেভাবে আটকে ছিল শপথ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন জামায়াত প্রার্থী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখলেও ঋণসংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে গণনা শেষে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তার গেজেট প্রকাশ ও শপথ দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অবশেষে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে তার প্রার্থিতা ও নির্বাচনের ফল বৈধ ঘোষণা হলে সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস