ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মেজাজ হারালেন মমতা

মারলেন নিজ দলের কর্মীর গালেই চড়

একের পর এক কর্মী জখম। অভিযোগ, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে বিনা প্ররোচনায় হামলা করেছে বিজেপি। সেই কর্মীদের কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে মেজাজ হারালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপাটে এক কর্মীর গালে চড় কষালেন তিনি। তবে সেখানেই শেষ নয়, ভিড় সামলানোর সময় একাধিক ব্যক্তিকে চড় মারেন। তবে বাকিরা খেয়েছেন পিঠে।

বুধবার মিছিলের জন্য হাই কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছিলেন মমতারা। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল আড়াই ঘণ্টা। তবে মিছিলের শুরুতেই উত্তেজনা শুরু হয়। মমতার অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে গুন্ডাদের দিয়ে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে বিজেপি। মহিলারাও ছাড় পাননি। ইট-ডিম পড়েছে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের গায়ে। মার খেয়েছেন আইটি সেলের কোর কমিটির নেত্রী উপাসনা চৌধুরী। জখম মহিলা এবং পুরুষ কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নেতাদের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ভিড়-বিশৃঙ্খলা সামলাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে হাঁক দেন মমতা।

আহতদের গাড়িতে তোলার জন্য লাইন করে দেওয়া হয়। তার মধ্যে মমতা বলতে থাকেন, ‘‘ভিড় কোরো না। সরে যাও… সরে যাও। সংবাদমাধ্যমের লোকজন সরে যান। রাস্তা ছাড়ুন।’’ ওই সময় উপাসনার পাশে ভিড় সামলাতে দেখা যায় সাদা-হলুদ টি-শার্ট গায়ে এক ব্যক্তিকে। তাঁর গালে চড় কষান মমতা। হাত নেড়ে পিছনের দিকে যেতে বলেন। ওই ব্যক্তি এর পর গাড়ির কাছে চলে যান। সেখানে আহতদের গাড়িতে তুলতে দেখা যায় তাঁকে। হ্যান্ডমাইক হাতে এগিয়ে চলেন মমতা। ভিড় সামলাতে আরও কয়েক জনের পিঠে চাপড় মারেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ‘দিদি’র হাতে চড় খাওয়া সকলেই দলেরই কর্মী। ভিড় সামলানোর জন্য তাঁদের ‘শাসন করেছেন দিদি’।

সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপির মারের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁদের ‘অনেক কর্মী’। তিনি বলেন, ‘‘মারের চোটে অনেকের দমবন্ধ হয়ে আসছে। মেয়েদের অনেকে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। তাঁদের প্রাইভেট পার্টসেও মারা হয়েছে। পুলিশ উদ্ধারকাজ করেনি। তাদের নির্লিপ্ত ভূমিকা ছিল।’’ ওই ভিডিয়োতে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলকেও নিশানা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বারুইপুরে বেইমানদের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছিলেন। এত ছলনা কেন? হয় আমাদের সঙ্গে তৃণমূল করুন। নইলে বিজেপির কোলে গিয়ে দুলুন। কর্মীদের রক্তের সম্মান দিন।’’

কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। তিনি বলেন, ‘‘উনি রাজনৈতিক নেত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক দেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সরকার, সরকার কিছু বন্ধ করছে না, চাপিয়েও দিচ্ছে না। পুলিশের ব্যারিকেড নেই রাস্তায়। হাঁটছেন হাঁটুন।’’ শমীকের খোঁচা, ‘‘আর উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন। বসে যাবেন কেন? হাঁটুন, শরীরের জন্য, মনের জন্যও ভাল।’’

বাংলা৭১নিউজ/সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেজাজ হারালেন মমতা

মারলেন নিজ দলের কর্মীর গালেই চড়

আপডেট সময় ১১:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

একের পর এক কর্মী জখম। অভিযোগ, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে বিনা প্ররোচনায় হামলা করেছে বিজেপি। সেই কর্মীদের কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে মেজাজ হারালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপাটে এক কর্মীর গালে চড় কষালেন তিনি। তবে সেখানেই শেষ নয়, ভিড় সামলানোর সময় একাধিক ব্যক্তিকে চড় মারেন। তবে বাকিরা খেয়েছেন পিঠে।

বুধবার মিছিলের জন্য হাই কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছিলেন মমতারা। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল আড়াই ঘণ্টা। তবে মিছিলের শুরুতেই উত্তেজনা শুরু হয়। মমতার অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে গুন্ডাদের দিয়ে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে বিজেপি। মহিলারাও ছাড় পাননি। ইট-ডিম পড়েছে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের গায়ে। মার খেয়েছেন আইটি সেলের কোর কমিটির নেত্রী উপাসনা চৌধুরী। জখম মহিলা এবং পুরুষ কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নেতাদের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ভিড়-বিশৃঙ্খলা সামলাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে হাঁক দেন মমতা।

আহতদের গাড়িতে তোলার জন্য লাইন করে দেওয়া হয়। তার মধ্যে মমতা বলতে থাকেন, ‘‘ভিড় কোরো না। সরে যাও… সরে যাও। সংবাদমাধ্যমের লোকজন সরে যান। রাস্তা ছাড়ুন।’’ ওই সময় উপাসনার পাশে ভিড় সামলাতে দেখা যায় সাদা-হলুদ টি-শার্ট গায়ে এক ব্যক্তিকে। তাঁর গালে চড় কষান মমতা। হাত নেড়ে পিছনের দিকে যেতে বলেন। ওই ব্যক্তি এর পর গাড়ির কাছে চলে যান। সেখানে আহতদের গাড়িতে তুলতে দেখা যায় তাঁকে। হ্যান্ডমাইক হাতে এগিয়ে চলেন মমতা। ভিড় সামলাতে আরও কয়েক জনের পিঠে চাপড় মারেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ‘দিদি’র হাতে চড় খাওয়া সকলেই দলেরই কর্মী। ভিড় সামলানোর জন্য তাঁদের ‘শাসন করেছেন দিদি’।

সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপির মারের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁদের ‘অনেক কর্মী’। তিনি বলেন, ‘‘মারের চোটে অনেকের দমবন্ধ হয়ে আসছে। মেয়েদের অনেকে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। তাঁদের প্রাইভেট পার্টসেও মারা হয়েছে। পুলিশ উদ্ধারকাজ করেনি। তাদের নির্লিপ্ত ভূমিকা ছিল।’’ ওই ভিডিয়োতে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলকেও নিশানা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বারুইপুরে বেইমানদের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছিলেন। এত ছলনা কেন? হয় আমাদের সঙ্গে তৃণমূল করুন। নইলে বিজেপির কোলে গিয়ে দুলুন। কর্মীদের রক্তের সম্মান দিন।’’

কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। তিনি বলেন, ‘‘উনি রাজনৈতিক নেত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক দেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সরকার, সরকার কিছু বন্ধ করছে না, চাপিয়েও দিচ্ছে না। পুলিশের ব্যারিকেড নেই রাস্তায়। হাঁটছেন হাঁটুন।’’ শমীকের খোঁচা, ‘‘আর উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন। বসে যাবেন কেন? হাঁটুন, শরীরের জন্য, মনের জন্যও ভাল।’’

বাংলা৭১নিউজ/সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা