ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার Logo কিউবানদের ভাতে মারতে চায় যুক্তরাষ্ট্র! Logo দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর Logo পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে পর্যটক এক্সপ্রেস Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মায়ের, চাকরির আশ্বাস Logo বান্দরবানে বন্ধ সকল পর্যটন কেন্দ্র, নাফাখুমে আটকা ৮৭ জন Logo বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কী কী কাজ হবে, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী Logo যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী Logo সরকারি অফিসগুলোতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২২ হাজার : সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন’

অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শহীদ পরিবার-আহতদের পুনর্বাসনসহ ছয় দফা দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য ও শহীদ পরিবার এবং আহতদের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর দেওয়া এ স্মারকলিপিতে ১১ দলীয় ঐক্য ও শহীদ পরিবার এবং আহতদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ঘটনা। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হন। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের গণরায় এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বিচারহীনতা ও সংস্কার বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৬ দফা দাবি—

১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

২. জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৩. জুলাইয়ের চেতনার আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতনাকে জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৬. আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন’

আপডেট সময় ০৪:১৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শহীদ পরিবার-আহতদের পুনর্বাসনসহ ছয় দফা দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য ও শহীদ পরিবার এবং আহতদের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর দেওয়া এ স্মারকলিপিতে ১১ দলীয় ঐক্য ও শহীদ পরিবার এবং আহতদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ঘটনা। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হন। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের গণরায় এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বিচারহীনতা ও সংস্কার বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৬ দফা দাবি—

১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও এর অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

২. জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৩. জুলাইয়ের চেতনার আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও চেতনাকে জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৬. আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ