শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুললে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার বা ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া সম্ভাব্য আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোর নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, ‘শুক্রবারই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। পরে দুই নেতা একান্তেও আলোচনা করেন। সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।’

বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, শি জিনপিং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার অদম্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে, সহযোগিতা করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতিমালার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশটি তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যেসব দেশের জন্য শ্রমবাজার খুলবে, সেখানে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার বা ফাস্ট ট্র্যাক ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।’

শ্রমবাজার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মালয়েশিয়া আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণে দেশটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহদী আমিন বলেন, ‘সফর শেষে তারা মাত্র দেশে ফিরেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। প্রেস টিমের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনা করবেন এবং সিদ্ধান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’

সম্ভাব্য আঞ্চলিক করিডোর নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধির পক্ষে। এ ধরনের করিডোর বাস্তবায়িত হলে দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে।’

করিডোর পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি হয়নি। পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত গবেষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শুধু একটি দেশের সঙ্গে নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আলোচনাগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com