সুইজারল্যান্ডে জেনেভায় আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি ইতিমধ্যে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই বুধবার এটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে স্বাক্ষর করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারীদের একজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
এরপরই ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সুইজারল্যান্ডে এ সংক্রান্ত সরাসরি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠিত হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি কোনো পক্ষ। অবশেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।
এরআগে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জেনেভায় তার সফর স্থগিত করছেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সামগ্রিক কাঠামোর অধীনে পরবর্তী ধাপগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।’
এছাড়াও বৃহস্পতিবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্ট থেকে কিছু অংশ সরিয়ে ফেলেন, তখনই এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
মুছে ফেলা ওই অংশে লেখা ছিল, ‘পাকিস্তানসহ-মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র কাতারের সমর্থনে, এই ঐতিহাসিক ঘটনা উদযাপনে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার সূচনা করতে ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।’
প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। এতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান।
চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলো বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
বাংলা৭১নিউজ/জেএস