অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অফুরান প্রাণশক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ভারতের কলিতা মাজি। একসময় অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে ভাত জোটাতে হয়েছে যাকে, আজ তিনিই জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মন্ত্রিসভায়।
গত সোমবার (১ জুন) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কলিতা মাজি। জীবন নামক বইয়ে তার এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আউশগ্রাম (সংরক্ষিত) আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন কলিতা।
একসময় গৃহপরিচারিকার কাজ করে মাসে মাত্র আড়াই থেকে চার হাজার রুপি আয় করতেন তিনি। সমাজের একেবারে তলানি থেকে উঠে আসা এই নারীর হাতেই আজ জনগণের ভালমন্দ দেখার ভার। কলিতার এই রাজনৈতিক সফলতাকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি নেতৃত্ব।
অতিসাধারণ এক পরিবারে জন্ম কলিতা মাজির। আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই বিয়ে এবং কাজের সন্ধানে নামা। স্বামী পাইপ লাইনের মিস্ত্রী। অনটনের সংসারে সেটা যথেষ্ট যোগান নয়। একসময় তাই বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয় কলিতার। এরপর শ্বশুর-শাশুড়ির আগ্রহে রাজনীতির ময়দানে পদার্পণ।
তবে, দারিদ্র্যের কষাঘাত থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নকে। লটারি কিংবা ভোজবাজির মতো যেন চোখের পলকে দৃশ্যপটের পালাবদল! প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কলিতা যখন নিজের বাড়ি নিজের আউশগ্রামে ফিরলেন, তখন আকাশে দেখা গেলো উৎসবের কনফেত্তি। তাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে রইলো শুভানুধ্যায়ীরা, বরমাল্য হাতে দেখা গেলো প্রান্তিক মানুষের মিছিল।
কলিতার এই অবিশ্বাস্য গল্প শুধু ব্যক্তিগত সফলতার নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস