স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি শেরপুরের তিনটি চরে। সড়ক এবং সেতুর অভাবে কৃষকেরা পাচ্ছেন না ফসলের ন্যায্যমূল্য, ফলে পরিবর্তন হয় না তাদের ভাগ্যের। তবে সড়ক ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
শেরপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বের কামারেরচরে কৃষির স্বর্গরাজ্য পয়স্তিরচর, গোয়ালপাড়া এবং ছয় নম্বর চর। মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচু সড়ক ও দশানী নদীতে তিনটি সেতুর অভাবে দুর্গম হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। ফলে কাঁচা সড়ক হয়ে আট গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
জানা যায়, এ চরাঞ্চলে ধান, গম, গোল আলু, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, মরিচ, সূর্যমুখী, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রায় অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য হয়।
কৃষক আব্বাস উদ্দিন মুন্সি বলেন, অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। আর শ্রমিক দিয়ে কামারের চর বাজারে নিয়ে গেলে অনেক খরচ হয়।
কৃষক ছামিদুল হক বলেন, চরের মাটিতে নানা সবজির ব্যাপক ফলন হয়। কিন্তু সঠিক দাম মূল্য পাই না। এর কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা। যদি সড়ক ও দশানি নদীতে সেতু থাকতো তাহলে এ চর সমৃদ্ধ ইকোনমিক জোন হিসেবে পরিচিত পেত।
কলেজ শিক্ষার্থী নাসির উদ্দীন জানান, ছয় ও সাত নম্বর চরে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া খুবই মুশকিল। কারণ রাস্তা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স আসতে পারে না। গর্ভবতী মায়েদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। তাই দশানী নদীতে সেতু ও সড়ক খুবই প্রয়োজন।
শেরপুর সম্মিলিত নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, দশানী নদী হয়ে পয়িস্তির চর, গোয়ালপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। যদি এ নদীর তিন স্থানে সেতু ও কামারের চর বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয় তাহলে ৫৪ বছরের দুঃখ লাঘব হবে।
কামারের চর উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, ‘সম্প্রতি শেরপুরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সড়ক-সেতু নির্মাণের দাবিতে দশানী নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে। এ সড়ক হয়ে প্রায় ১৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থীও শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি আর বর্ষায় কাঁদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসে না।
আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও আসতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারায় মাদকের সর্গরাজ্য হয়েছে। অন্য অপরাধীরাও বৃহৎ এ চরাঞ্চলকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। একটি সড়ক আর দশানী নদীর তিনটি পয়েন্টে সেতু হলেই পালটে যাবে চরের চিত্র। খুলে যাবে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা।
এলজিইডি’র শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কামারের চরে দশানী নদীতে সেতুর জন্য অনেকবার জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করি এবার সেতু নির্মাণ হবে। পাশাপাশি সড়কও নির্মাণ করা হবে।
শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কামারেরচরসহ পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এখানকার জমিতে সৃষ্টিকর্তা বিশেষ গুণাগুণ দিয়েছেন।
কারণ কৃষির জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সুবিধাজনক। ফসলের বাম্পার ফলন হয় এখানে। কেবল সেতু আর সড়কেই বদলে যাবে এখানকার কৃষকদের ভাগ্য। আশা করছি, দ্রুতই সড়ক ও সেতু নির্মাণ হবে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি