শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারি ফের চালু

বাংলা৭১নিউজ, চট্টগ্রাম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।

আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানির চালান দেশে পৌঁছানোর পর শুক্রবার সকালে রিফাইনারির ফায়ার্ড হিটারে প্রসেসিং শুরু হয়। পরে এক ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণমাত্রায় পরিশোধন কার্যক্রম চালু করা হয়।

বর্তমানে উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করে নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রিফাইনারির পাশের জেটিতে থাকা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও সমানতালে ক্রুড অয়েল খালাস চলছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মামুনুর রশীদ খান গণমাধ্যমকে জানান, ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে কুতুবদিয়া উপকূলে নোঙর করেছে। সেখান থেকে সরবরাহ পাওয়া শুরু হওয়ায় শোধনাগারটি আবার সচল করা সম্ভব হয়েছে।

শুরুতে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কারিগরি সমন্বয়ের কারণে উৎপাদন সীমিত রাখা হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রুড অয়েল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়।

মজুত শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আনা হয়।

জানা গেছে, বর্তমানে যে পরিমাণ ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন শোধন কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন চালান আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আগামী ২০ মে’র দিকে আরও একটি চালান দেশে পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ১০ থেকে ১২ মে’র মধ্যে সৌদি আরব থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল লোড হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারিকে সচল রাখতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল আমদানির বিকল্প নেই। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান নিশ্চিত করতে না পারলে আবারও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব।

এছাড়া রিফাইনারিতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি এবং দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সাময়িক উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com