ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান Logo সিরাজগঞ্জ: ট্রাকের পেছনে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ২ Logo শ্রাবণের শেষে মেঘলা আকাশ: বৃষ্টিতে ভিজতে পারে ঢাকাসহ ৮ বিভাগ Logo কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের মিছিল Logo নওগাঁয় পৌঁছেছে সৌদি আরবে আগুনে নিহত ৭ মরদেহ, ১০টায় জানাজা Logo কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক হত্যা: পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন অভিযুক্ত Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ Logo পোলিও টিকার আবিষ্কারক জোনাস সল্ক: মানবকল্যাণে নিবেদিত এক অমর প্রাণ Logo আত্মিক প্রশান্তি পেতে প্রতিদিন এই ১০ আমলে গুরুত্ব দিন Logo প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

আমরা একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিদ্যুৎ সংকট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও দলমত নির্বিশেষে ঐক্য ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান কীভাবে করা যায় এবং দেশ-বিদেশে অধিক সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রায়ই সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের চাহিদা তুলে ধরেন। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতাও তার এলাকার সমস্যার কথা বলেছেন। তবে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমান সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত না করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইটি শিল্পের বিকাশ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এর উন্নয়ন নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন দেশের অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ চলবে। তবে কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে ১৭৩ দিনের হরতালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ, এবং সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ—এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

আমরা একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ সংকট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও দলমত নির্বিশেষে ঐক্য ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান কীভাবে করা যায় এবং দেশ-বিদেশে অধিক সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রায়ই সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের চাহিদা তুলে ধরেন। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতাও তার এলাকার সমস্যার কথা বলেছেন। তবে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমান সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল সরকার এবং স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত না করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইটি শিল্পের বিকাশ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এর উন্নয়ন নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন দেশের অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ চলবে। তবে কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে ১৭৩ দিনের হরতালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ, এবং সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ—এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস