মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু সংকট মোকাবিলা অনিবার্য ও জরুরি: তথ্যমন্ত্রী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম দূষণের হাত থেকে নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্পের গ্রহণ না করার ইঙ্গিত: সিএনএন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেছেন, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক। অথচ উনি জামায়াতে ইসলামী করেন, এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছে।
 
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘উনাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছেন, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলেন। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম… এবং উনি যে বলতেছেন… ওইদিন বললেন যে.. আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সমস্ত (ভ্রু) পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছেন।’

এসময় তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, ‘আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন।’ এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে কি কেউ এই ধরনের উক্তি করেছেন? এরকম তো সংসদে কেউ বলেননি।’ জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, ‘করেছে।’ স্পিকার পুনরায় বলেন, ‘আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন?’ ফজলুর রহমান তখন জোর দিয়ে বলেন, ‘করেছে।’

স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।’

ফজলুর রহমানের এসব বক্তব্যের যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে দেখেন, তারা কী ধরনের আচরণ করছেন আজকে!’

স্পিকার তখন সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান, অপেক্ষা করুন। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। দয়া করে বসুন। মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি বলি তারপর আপনি বলেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে, লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বলি যে রুলস অব প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।’

স্পিকার বলেন, ‘প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা এরপরে তার বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন করুন। কিন্তু এই যে, শিশুরাও লজ্জা পাবে এ ধরনের আচরণে। ফজলুর রহমান সাহেব বলেছেন, এর পরেই আপনাদের একজনকে টাইম দেবো।’  

এরপর ফজলুর রহমান আবারও বক্তব্য শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সনের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে নিয়ে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউজে প্রস্তাব হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা নয়। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com