রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন গণতন্ত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে ত্রয়োদশ সংসদ: স্পিকার পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী সহায়তা করছে : মন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা কমাতে আধুনিক হচ্ছে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ বাংলাদে‌শি শিক্ষার্থী‌র হত্যাকারীদের বিচা‌র হবে, প্রত্যাশা বাংলাদেশের একনেকে অনুমোদন পেলো না সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুষ্ঠু হচ্ছে এসএসসি, ডিসেম্বরেই সব পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা সরকারের না ফেরার দেশে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন

নেত্রকোনায় বৃষ্টিতেই ডুবছে হাওরের বোরো, শ্রমিক-যন্ত্র সংকটে বিপাকে কৃষক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। এরই মধ্যে বৃষ্টির পানিতে অনেক জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে কাজ করতে পারছে না ধান কাটার হারভেস্টার মেশিনও। তার ওপর রয়েছে তেলের সংকট। ফলে বন্যা ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকেরা ফসল ডুবির শঙ্কায় পড়েছেন। ঢল নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি বাড়তে থাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আটপাড়া উপজেলার ষাটোর্ধ্ব তাহের উদ্দিন ও তার ছেলে সোহাগ ১৫ কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে তারা এখন কোমর পানিতে নেমেই কাঁচা-পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। তারা জানান, দুই মণ ধান দিলেও একজন শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলার দ্বীপ উপজেলা খালিয়াজুরী ছাড়াও অধিকাংশ উপজেলাতেই আংশিক হাওর রয়েছে। মদন, মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত। অন্যদিকে আটপাড়া, কেন্দুয়া, সদর ও বারহাট্টারও প্রায় অর্ধেক এলাকা হাওরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এ অবস্থায় টানা বৃষ্টিতে খাল-বিল ও নদী-নালার পানি ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পানি নামার পথ নেই। ফলে জমে থাকা পানিতেই বোরো ফসল ডুবে গেছে। অনেক কৃষক কোমর পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে কিস্তিতে কেনা হারভেস্টার মেশিন থাকলেও তেলের সংকটে তা চালাতে পারছেন না কাঞ্চন মিয়া। ধান টানার লরিও পড়ে আছে অচল অবস্থায়। কিছু মেশিন মাঠে নামলেও জলাবদ্ধতার কারণে যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন হাওরের অসংখ্য কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, বন্যা না এলেও এবারের বৃষ্টির পানিতেই ফসল ডুবে গেছে। যে বৈশাখে আনন্দের সঙ্গে ধান কাটার কথা, সেই সময়ে এখন তারা হতাশা নিয়ে পানির মধ্যে নেমে ফসল তুলছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১০ উপজেলায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি। তবে বৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭২ হেক্টর জমির বোরো ধান জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। বাজারমূল্যে যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় তিন কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জেলায় মোট ৬৪১টি হারভেস্টার মেশিন এবং প্রায় ৮০০ শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৪৮৭টি মেশিন কাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে গিয়ে এত মেশিনের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

মদন থেকে খালিয়াজুরী পর্যন্ত এলাকায় মাত্র তিনটি হারভেস্টার মেশিন কাজ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে আরও পাঁচটি মেশিন পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকটি বিকল হয়ে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫টি মেশিন কাজ করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানিতে এবার কিছু জমি আক্রান্ত হয়েছে। সেজন্য উঁচু জমিতে ধার রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর তেলের বাধা কেটে গেলে, মেশিনগুলো ভালোভাবে ধান কেটে ফেলতে পারবে। সংকট হবে না বলেই আশা তার। 

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com