ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা ছাপানোর খবর নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী

সম্প্রতি টাকা ছাপানোর যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তা নাকচ করে দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘এই ধরনের নীতিতে (টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়া) একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’ হয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি নীতিগত অবস্থানে থাকতে চায়, যেখানে উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ (হাই পাওয়ার মানি) তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে না। এটা আমাদের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান গাইডলাইন ও প্রিন্সিপাল।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এতে অর্থনীতি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সরাসরি ক্ষমতায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরাই সবচেয়ে দক্ষ, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় এমপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্প (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ কারিগরদের পণ্যকে ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রফতানিও বৃদ্ধি পাবে।’

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘আন্ডার পারফর্ম’ করছে।’

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিউজ কাভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

টাকা ছাপানোর খবর নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি টাকা ছাপানোর যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তা নাকচ করে দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘এই ধরনের নীতিতে (টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়া) একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’ হয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি নীতিগত অবস্থানে থাকতে চায়, যেখানে উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ (হাই পাওয়ার মানি) তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে না। এটা আমাদের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান গাইডলাইন ও প্রিন্সিপাল।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এতে অর্থনীতি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সরাসরি ক্ষমতায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরাই সবচেয়ে দক্ষ, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় এমপ্লয়ার হচ্ছে এসএমই খাত। এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্প (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ কারিগরদের পণ্যকে ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রফতানিও বৃদ্ধি পাবে।’

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘আন্ডার পারফর্ম’ করছে।’

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিউজ কাভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস