ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি মাছ-মুরগি-ডিমে Logo বন্যপ্রাণীরা কেন মানুষকে আক্রমণ করে, কী জন্য প্রাণীরা ‘নরখাদক’ হয় Logo হার্ট অ্যাটাকে প্রখ্যাত অভিনেতা নারায়ণ রাওয়ের মৃত্যু Logo প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাবেন Logo ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’ লেখা সাইনবোর্ডের আড়ালে কনডমের কারখানা Logo প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান Logo সিরাজগঞ্জ: ট্রাকের পেছনে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ২ Logo শ্রাবণের শেষে মেঘলা আকাশ: বৃষ্টিতে ভিজতে পারে ঢাকাসহ ৮ বিভাগ Logo কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের মিছিল Logo নওগাঁয় পৌঁছেছে সৌদি আরবে আগুনে নিহত ৭ মরদেহ, ১০টায় জানাজা

দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই সবজির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে সেই কমা এখনও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি নিয়ে আসতে পারেনি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি সবজির দামে সামান্য স্বস্তি মিললেও অনেক পণ্যের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি রয়েছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাজারে আজ করলা প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ১৪০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েকটি সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও অধিকাংশ ক্রেতা বলছেন, এই দামে এখনও স্বস্তি নেই।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু সংসারের বাজার করতে গেলে মোট খরচ খুব একটা কমছে না। একটার দাম কমলে আরেকটার দাম বেশি থাকে। তাই পুরোপুরি স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেকজন ক্রেতা জানান, টমেটো আর ঢেঁড়সের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু বেগুন, কাকরোলসহ অনেক সবজির দাম এখনও বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু কিনতে গেলে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যায়।

সাহানাজ নামের এক গৃহিণী বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন হিসাব করতে হয়। আগে যে টাকায় কয়েকদিনের সবজি কেনা যেত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দাম একটু কমলেও সেটা আমাদের জন্য তেমন কাজে আসছে না।

মধ্যবিত্ত আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে সামান্য কমার খবর শুনে এসেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখি তেমন সুবিধা হয়নি। বিশেষ করে যাদের বড় পরিবার, তাদের জন্য এই দাম এখনও চাপের।

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ার কারণে কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। তবে সব ধরনের সবজির ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পাইকারি বাজারে দামের ওঠানামার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানান তারা।

সবজি বিক্রেতা কাউসার আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিনে কিছু সবজির সরবরাহ বেড়েছে, তাই দাম কিছুটা কমেছে। তবে সবজির গাড়ি নিয়মিত না আসলে আবার দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

সবজি বিক্রেতা সবুজ জানান, ক্রেতারা মনে করেন আমরা বেশি দামে বিক্রি করি। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকেই অনেক সময় বেশি দামে কিনতে হয়। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে কম দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে যায়।

আরেকজন বিক্রেতার ভাষ্য, বাজারে এখন চাহিদা আছে, কিন্তু সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই সবজির দাম পুরোপুরি কমছে না। সামনে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। তবে আপাতত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সবজির বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি মাছ-মুরগি-ডিমে

দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই সবজির বাজারে

আপডেট সময় ১১:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে সেই কমা এখনও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি নিয়ে আসতে পারেনি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি সবজির দামে সামান্য স্বস্তি মিললেও অনেক পণ্যের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি রয়েছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাজারে আজ করলা প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ১৪০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েকটি সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও অধিকাংশ ক্রেতা বলছেন, এই দামে এখনও স্বস্তি নেই।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু সংসারের বাজার করতে গেলে মোট খরচ খুব একটা কমছে না। একটার দাম কমলে আরেকটার দাম বেশি থাকে। তাই পুরোপুরি স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেকজন ক্রেতা জানান, টমেটো আর ঢেঁড়সের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু বেগুন, কাকরোলসহ অনেক সবজির দাম এখনও বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু কিনতে গেলে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যায়।

সাহানাজ নামের এক গৃহিণী বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন হিসাব করতে হয়। আগে যে টাকায় কয়েকদিনের সবজি কেনা যেত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। দাম একটু কমলেও সেটা আমাদের জন্য তেমন কাজে আসছে না।

মধ্যবিত্ত আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে সামান্য কমার খবর শুনে এসেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখি তেমন সুবিধা হয়নি। বিশেষ করে যাদের বড় পরিবার, তাদের জন্য এই দাম এখনও চাপের।

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ার কারণে কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। তবে সব ধরনের সবজির ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পাইকারি বাজারে দামের ওঠানামার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানান তারা।

সবজি বিক্রেতা কাউসার আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিনে কিছু সবজির সরবরাহ বেড়েছে, তাই দাম কিছুটা কমেছে। তবে সবজির গাড়ি নিয়মিত না আসলে আবার দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

সবজি বিক্রেতা সবুজ জানান, ক্রেতারা মনে করেন আমরা বেশি দামে বিক্রি করি। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকেই অনেক সময় বেশি দামে কিনতে হয়। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে কম দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে যায়।

আরেকজন বিক্রেতার ভাষ্য, বাজারে এখন চাহিদা আছে, কিন্তু সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই সবজির দাম পুরোপুরি কমছে না। সামনে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। তবে আপাতত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সবজির বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস