ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল লক্ষ্য Logo দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo বাবাকে হারানোর পর প্রথমবার গোল পেলেন মেসি, ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে মিয়ামির ড্র Logo কক্সবাজারে বিজিবির অভিযানে ৬ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার Logo ৫৫ বছর পর বদলাচ্ছে অর্থবছর, কী কী পরিবর্তন আসছে Logo ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গুলিবিদ্ধ, কুপিয়ে জখম Logo একবছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে কলেরা ভ্যাকসিন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত? Logo দেড় হাজার টাকা পাওনা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭ Logo রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা যতটা, সীমাবদ্ধতাও ততটা

দড়ি ধরে মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন মারা গেছেন

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে দড়ি ও বাঁশ ধরে মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া সেই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিন মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ বেঁধে ও দড়ি টেনে নেন তিনি। এরপর তিনি বাঁশ ও দড়ি ধরে মসজিদে যেতেন। মাইক চালিয়ে আজান দিতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতিও করতেন।

মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১৯ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার দুই চোখের দৃষ্টি হারান। তার পরিবারে রয়েছে দুই স্ত্রী ও ২৫ ছেলে-মেয়ে। তাদের মধ্যে ছয় সন্তান মারা গেছেন এবং বর্তমানে তার ১০ মেয়ে, ৯ ছেলে ও দুই স্ত্রী বেঁচে আছেন।

অন্ধ হওয়ার পরে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ২০১১ সালে তিনি পবিত্র হজও পালন করেন। হজ করে আসার পর নিজ গ্রামে নিজস্ব পাঁচ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। ছেলে-নাতি, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের মানুষদের নিয়ে ওই মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করেন।

২০১১ সালেই তিনি বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি টেনে নেন যাতে সেটি ধরে নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করতে পারেন। তিনি তখন থেকেই ওই মসজিদের অবৈতনিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল লক্ষ্য

দড়ি ধরে মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন মারা গেছেন

আপডেট সময় ০৫:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে দড়ি ও বাঁশ ধরে মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া সেই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিন মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ বেঁধে ও দড়ি টেনে নেন তিনি। এরপর তিনি বাঁশ ও দড়ি ধরে মসজিদে যেতেন। মাইক চালিয়ে আজান দিতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতিও করতেন।

মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ১৯ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার দুই চোখের দৃষ্টি হারান। তার পরিবারে রয়েছে দুই স্ত্রী ও ২৫ ছেলে-মেয়ে। তাদের মধ্যে ছয় সন্তান মারা গেছেন এবং বর্তমানে তার ১০ মেয়ে, ৯ ছেলে ও দুই স্ত্রী বেঁচে আছেন।

অন্ধ হওয়ার পরে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ২০১১ সালে তিনি পবিত্র হজও পালন করেন। হজ করে আসার পর নিজ গ্রামে নিজস্ব পাঁচ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন একটি পাকা মসজিদ। ছেলে-নাতি, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের মানুষদের নিয়ে ওই মসজিদে নামাজ আদায় শুরু করেন।

২০১১ সালেই তিনি বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি টেনে নেন যাতে সেটি ধরে নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করতে পারেন। তিনি তখন থেকেই ওই মসজিদের অবৈতনিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ