ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তারেক রহমানের জন্য অধীর অপেক্ষায় দিল্লি: ভারতীয় হাইকমিশনার Logo তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ‘রূঢ় ও অহংকারী’: বীণা সিক্রি Logo প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে আমার কাছে নতুন তথ্য নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo দুদক: বুধবার থেকে কাজ শুরু করবে নতুন কমিশন Logo তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক Logo শিক্ষকদের জন্য সুখবর: স্বতন্ত্র পে-স্কেলের কথা ভাবছে সরকার Logo কখনো ভাবিনি রাষ্ট্রপতি হবো, জনগণের পাশে থেকেই সেবা করব: ফখরুল Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের সাক্ষাৎ Logo আপনার ভুল অভ্যাসগুলো নীরবে বাড়িয়ে দিচ্ছে কোলেস্টেরল Logo শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

ফুটবল খেলা মাইকিং নিয়ে ৪ গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার রেশ ধরে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। রাতে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের মানুষ মুখোমুখি অবস্থানে নামে।

মুনসুরাবাদ গ্রামের অধিবাসীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কিসহ হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

এ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম

Tag :

তারেক রহমানের জন্য অধীর অপেক্ষায় দিল্লি: ভারতীয় হাইকমিশনার

ফুটবল খেলা মাইকিং নিয়ে ৪ গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

আপডেট সময় ১২:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার রেশ ধরে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। রাতে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের মানুষ মুখোমুখি অবস্থানে নামে।

মুনসুরাবাদ গ্রামের অধিবাসীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কিসহ হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

এ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম