ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭ Logo নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান Logo নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মৃত্যুদণ্ড Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

আলু চাষ করে বিপাকে কৃষক

নতুন মৌসুম শুরু হলেও এবার আলুর বাজারে স্বস্তির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। সাধারণত বছরের এই সময়ে নতুন আলুর আগমনে বাজারে দাম কিছুটা ভালো থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে এখনো বিপুল পরিমাণ পুরোনো আলুর মজুদ থাকায় নতুন আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। 

কৃষকরা বলছেন, বাজারে আলুর দামে ধ্বস নেমেছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। এতে করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। 

জানা যায়, বগুড়ায় চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আলু চাষ করে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। গত মৌসুমের বিপুল পরিমাণ আলু এখনো হিমাগারে রয়ে গেছে। সাধারণত এই সময়ের মধ্যে হিমাগারগুলো প্রায় খালি হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

পুরোনো আলুর এই অতিরিক্ত মজুদের কারণেই নতুন আলু বাজারে এলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন তারা।কৃষকরা বলছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়।

এসব আলু ৬৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই তুলে বাজারজাত করা হয় এবং নতুন আলু হিসেবে বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতিকেজি ৮ থেকে ৯ টাকায়। এতে করে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কৃষক আলু পরিপক্ব হয়ে গেলেও ক্ষেত থেকে তুলছেন না। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চাঁদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, এবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। যার প্রায় অর্ধেকই আগাম জাতের। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করতে খরচ হয় অন্তত ৩৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫ মণ।

কিন্তু বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে এই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না।পাইকারী ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ জানান, বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করেছেন। কিন্তু কম দামে বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে।
শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান,  কৃষি বিভাগ আলু উৎপাদন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ  করেছে। বাজারদর নির্ধারণ কৃষি বিপণন বিভাগের বিষয়। 
এদিকে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭

আলু চাষ করে বিপাকে কৃষক

আপডেট সময় ০৪:৫৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন মৌসুম শুরু হলেও এবার আলুর বাজারে স্বস্তির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। সাধারণত বছরের এই সময়ে নতুন আলুর আগমনে বাজারে দাম কিছুটা ভালো থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে এখনো বিপুল পরিমাণ পুরোনো আলুর মজুদ থাকায় নতুন আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। 

কৃষকরা বলছেন, বাজারে আলুর দামে ধ্বস নেমেছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। এতে করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। 

জানা যায়, বগুড়ায় চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আলু চাষ করে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। গত মৌসুমের বিপুল পরিমাণ আলু এখনো হিমাগারে রয়ে গেছে। সাধারণত এই সময়ের মধ্যে হিমাগারগুলো প্রায় খালি হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

পুরোনো আলুর এই অতিরিক্ত মজুদের কারণেই নতুন আলু বাজারে এলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন তারা।কৃষকরা বলছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়।

এসব আলু ৬৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই তুলে বাজারজাত করা হয় এবং নতুন আলু হিসেবে বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতিকেজি ৮ থেকে ৯ টাকায়। এতে করে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কৃষক আলু পরিপক্ব হয়ে গেলেও ক্ষেত থেকে তুলছেন না। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চাঁদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, এবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। যার প্রায় অর্ধেকই আগাম জাতের। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করতে খরচ হয় অন্তত ৩৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫ মণ।

কিন্তু বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে এই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না।পাইকারী ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ জানান, বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করেছেন। কিন্তু কম দামে বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে।
শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান,  কৃষি বিভাগ আলু উৎপাদন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ  করেছে। বাজারদর নির্ধারণ কৃষি বিপণন বিভাগের বিষয়। 
এদিকে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ