ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি করবো চাঁদাবাজিও করবো, কিন্তু চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা কোনো কথা!

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি রাজনীতি করবো, আমি চাঁদাবাজিও করবো, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে, আপনি একজন চাঁদাবাজ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চাঁদাবাজির জ্বালায় দেশের মানুষ জর্জরিত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কথা দিচ্ছি, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠাবো না, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আমরাও মাঠে নামবো।

তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফেরাতে হবে। এই যে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজ, দুর্নীতিবাজ—এরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপর এসে ছোঁ মারে।

সিন্ডিকেট ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কৃষকের পাশাপাশি পরিবহন মালিকরা ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ। একটা পণ্যের মূল্য প্রান্তিক পর্যায় থেকে ঢাকায় আসতে দ্বিগুণ হতে পারে, কিন্তু চারগুণ দাম মেনে নেওয়া যায় না। এতে কৃষক, পরিবহন মালিক, হোলসেল ও রিটেইলার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতির মূল কারণ চাঁদা।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের অবহেলা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি আর কিছু জায়গায় হালুয়া-রুটির ভাগবাটোয়ারার কারণে যে চাঁদাবাজি হয়, জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। সেই ফলাফল বার্তা দেবে, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীরা চাঁদাবাজি করে না এবং চাঁদাবাজি বরদাশতও করবে না।

সঙ্গে সঙ্গে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান সেটি দেখা হবে না। এক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। তবে আলামত ভালো নয়। চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাঁধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। তবে জনগণ এখনো আশ্বস্ত হয়নি। উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। সেটি না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে।

নির্বাচনি মাঠের প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন অন্যকে সম্মান করে। গালভরে যে গণতন্ত্রের কথা বলে, সেই গণতন্ত্রের পথে যেন তারা হাঁটে। জনগণকে বুঝিয়ে নিজেদের পক্ষে নিতে পারলে সমস্যা নেই। তবে গায়ের জোরে পুরোনো কায়দায় যেকোনো ভাবে নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা যেন করা না হয়। সেটি করতে চাইলে যুবসমাজ ঘুমিয়ে থাকবে না।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম

Tag :

রাজনীতি করবো চাঁদাবাজিও করবো, কিন্তু চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা কোনো কথা!

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি রাজনীতি করবো, আমি চাঁদাবাজিও করবো, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে, আপনি একজন চাঁদাবাজ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চাঁদাবাজির জ্বালায় দেশের মানুষ জর্জরিত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কথা দিচ্ছি, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠাবো না, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আমরাও মাঠে নামবো।

তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফেরাতে হবে। এই যে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজ, দুর্নীতিবাজ—এরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপর এসে ছোঁ মারে।

সিন্ডিকেট ব্যবসা ও চাঁদাবাজির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কৃষকের পাশাপাশি পরিবহন মালিকরা ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ। একটা পণ্যের মূল্য প্রান্তিক পর্যায় থেকে ঢাকায় আসতে দ্বিগুণ হতে পারে, কিন্তু চারগুণ দাম মেনে নেওয়া যায় না। এতে কৃষক, পরিবহন মালিক, হোলসেল ও রিটেইলার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতির মূল কারণ চাঁদা।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের অবহেলা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি আর কিছু জায়গায় হালুয়া-রুটির ভাগবাটোয়ারার কারণে যে চাঁদাবাজি হয়, জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। সেই ফলাফল বার্তা দেবে, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীরা চাঁদাবাজি করে না এবং চাঁদাবাজি বরদাশতও করবে না।

সঙ্গে সঙ্গে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান সেটি দেখা হবে না। এক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। তবে আলামত ভালো নয়। চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাঁধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। তবে জনগণ এখনো আশ্বস্ত হয়নি। উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। সেটি না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে।

নির্বাচনি মাঠের প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন অন্যকে সম্মান করে। গালভরে যে গণতন্ত্রের কথা বলে, সেই গণতন্ত্রের পথে যেন তারা হাঁটে। জনগণকে বুঝিয়ে নিজেদের পক্ষে নিতে পারলে সমস্যা নেই। তবে গায়ের জোরে পুরোনো কায়দায় যেকোনো ভাবে নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা যেন করা না হয়। সেটি করতে চাইলে যুবসমাজ ঘুমিয়ে থাকবে না।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম