ইরান-ইসরাইল নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ায় দেশ দুটির সামরিক শক্তি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে শীর্ষ ২০ সামরিক শক্তিধরের তালিকায় আছে দুই দেশই। ইসরাইলসহ বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মজুতের তথ্য থাকলেও এর পরিমাণ ইরানে কেমন; সে সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য নেই।
ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পর থেকেই দেশ দুটির সামরিক শক্তিমত্তার বিষয়ও সামনে আসছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরাইলের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে আছে। দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বিবিসি।
ইরান ও ইসরাইল দুই দেশই প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তবে বার্ষিক সামরিক বাজেটে ইরানের তুলনায় ইসরাইলের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট ২ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। আর ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি। সামরিক ব্যয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৪৫ দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ৩৩তম। আর ইসরাইল ১৯তম স্থানে।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সেনা সংখ্যার বিচারে ইসরাইলের চেয়ে এগিয়ে আছে ইরান। ইসলামিক শাসনতন্ত্রে পরিচালিত দেশটির নিয়মিত সেনা ১১ লাখ ৮০ হাজার। বিপরীতে ইসরাইলের সেনা সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার। ইরানের হাতে আছে ৫৫১টি সামরিক বিমান, ইসরাইলের আছে ৬১২টি।
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক দিয়েও এগিয়ে ইরান। ইসরাইলের ১ হাজার ৩৭০টি ট্যাংকের বিপরীতে ইরানের আছে ১ হাজার ৯৯৬টি। ইরান এগিয়ে আছে নৌ শক্তিতেও। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট ও ২১টি টহল দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইসরাইলের ৫টি সাবমেরিনের বিপরীতে ইরানের আছে ১৯টি।
ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০২৩ সালের তথ্যের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। তবে ইরানের হাতে কী পরিমাণ অস্ত্র মজুত আছে তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।
গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
বাংলা৭১নিউজ/সূত্র: বিবিসি



























