ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে যা বললেন প্রেসিডেন্ট পাজ Logo ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটিরও বেশি খতিয়ান, সহজ হচ্ছে ভূমিসেবা Logo জাতীয় উন্নয়নে যুবসমাজকে আত্মনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo মিরপুরে এক দিনেই ১২৭ জন গ্রেফতার, ঢাকায় মোট ৫০৫ Logo ব্যালন জিতেই পেনাল্টি মিস কেইনের, ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে বায়ার্নের নাটকীয় ড্র Logo মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের Logo গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন Logo ডাক্তার বলেছে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি Logo ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ Logo ফেসবুক ভিডিওতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন

আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার খারাপ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো লাখ লাখ তরুণ ও শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

শনিবারের (৩১ অক্টোবর) এই আন্দোলনে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় অনুসারে দেশজুড়ে তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের মতে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ এবং শুধু প্যারিসেই যোগ দিয়েছিলেন দুই লাখ মানুষ।

প্যারিস এবং লিয়ন শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। প্যারিসের মূল পদযাত্রা শেষ হওয়ার স্থানে ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ে স্থান থেকে সরাসরি আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, ‘আমরা যা দেখছি… তাহল পুলিশ এই ভিড়ের মধ্যে প্রচুর টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে।’ তিনি নিজের দলের সরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সরে যেতে হয়েছিল কারণ আমাদের জন্য শ্বাস নেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

সহিংসতার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে নাতাশা বাটলার বলেন, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার নিন্দা করলেও অনেকেই সরকারের না শোনার মনোভাবকে দায়ী করছেন। বিক্ষোভকারীদের মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে যারা বারবার রাস্তায় নেমেছেন তাদের দেখে আপনারা সত্যিই বুঝতে পারবেন যে তারা স্রেফ সরকারকে আর বিশ্বাস করেন না। সেই আস্থা ভেঙে গেছে।’

বিক্ষোভ থামাত না পারলে আরও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হবে বলে দাঙ্গা পুলিশ লাউডস্পিকারে সতর্ক করে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান এবং কিছু বিক্ষোভকারী কোনো ক্ষতি করবেন না বোঝাতে হাত তুলে ধরে রাখেন। তবে মাস্ক পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করে এবং অন্তত একটি দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস মোতায়েন করা হয় এবং ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেছেন এবং ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন।

এর আগে গত মাসে জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তাতে যোগ দেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন যা দুর্ধর্ষ দাঙ্গায় রূপ নেয়।

ফ্রান্সের এই অসন্তোষের ঢেউ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানির কোলন শহরে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষায় ছাঁটাই এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করেছে পুলিশ, যেখানে দেশটির ৩০টিরও বেশি শহরে মোট এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হন। এছাড়া স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গায় ১৩০ জন গ্রেপ্তারের পর উচ্চ সতর্কতাবস্থানে রয়েছে পুলিশ, একইভাবে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে যা বললেন প্রেসিডেন্ট পাজ

আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

আপডেট সময় ১০:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার খারাপ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো লাখ লাখ তরুণ ও শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

শনিবারের (৩১ অক্টোবর) এই আন্দোলনে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় অনুসারে দেশজুড়ে তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের মতে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ এবং শুধু প্যারিসেই যোগ দিয়েছিলেন দুই লাখ মানুষ।

প্যারিস এবং লিয়ন শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। প্যারিসের মূল পদযাত্রা শেষ হওয়ার স্থানে ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ে স্থান থেকে সরাসরি আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, ‘আমরা যা দেখছি… তাহল পুলিশ এই ভিড়ের মধ্যে প্রচুর টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে।’ তিনি নিজের দলের সরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সরে যেতে হয়েছিল কারণ আমাদের জন্য শ্বাস নেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

সহিংসতার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে নাতাশা বাটলার বলেন, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার নিন্দা করলেও অনেকেই সরকারের না শোনার মনোভাবকে দায়ী করছেন। বিক্ষোভকারীদের মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে যারা বারবার রাস্তায় নেমেছেন তাদের দেখে আপনারা সত্যিই বুঝতে পারবেন যে তারা স্রেফ সরকারকে আর বিশ্বাস করেন না। সেই আস্থা ভেঙে গেছে।’

বিক্ষোভ থামাত না পারলে আরও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হবে বলে দাঙ্গা পুলিশ লাউডস্পিকারে সতর্ক করে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান এবং কিছু বিক্ষোভকারী কোনো ক্ষতি করবেন না বোঝাতে হাত তুলে ধরে রাখেন। তবে মাস্ক পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করে এবং অন্তত একটি দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস মোতায়েন করা হয় এবং ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেছেন এবং ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন।

এর আগে গত মাসে জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তাতে যোগ দেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন যা দুর্ধর্ষ দাঙ্গায় রূপ নেয়।

ফ্রান্সের এই অসন্তোষের ঢেউ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানির কোলন শহরে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষায় ছাঁটাই এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করেছে পুলিশ, যেখানে দেশটির ৩০টিরও বেশি শহরে মোট এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হন। এছাড়া স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গায় ১৩০ জন গ্রেপ্তারের পর উচ্চ সতর্কতাবস্থানে রয়েছে পুলিশ, একইভাবে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ