ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চীনের লাগাম টানতে শুধু স্বচ্ছতা যথেষ্ট নয় Logo লং মার্চে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে সবার আগে বিএনপি করত Logo সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ এলজিআরডি মন্ত্রীর Logo প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের প্রাণশক্তি : রাষ্ট্রপতি Logo আয়াসের শুনানিতে আদালতে আইনজীবীদের হাতাহাতি Logo দর-কষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রত্যাহার Logo দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের প্রয়োজন—৩ অনুপ্রেরণাদায়ীকে প্রধানমন্ত্রী Logo ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা, যুক্ত হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে প্রতিবাদ Logo হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির Logo ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০

দর-কষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানের দর-কষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে একজন সেবাপ্রত্যাশীর কাছ তেকে দর-কষাকষি করে ঘুষ নিতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাকে প্রত্যাহার করেছে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর। এর আগে মঙ্গলবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বোরহানউদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিস। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে দেখা যায়, সাচড়া ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান নিজ কার্যালয়ের চেয়ারে বসে একজন সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে জমির ভিএস খতিয়ানের ফটোকপি সরবরাহের জন্য ১৮০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

পরে ওই সেবাপ্রত্যাশী তাকে ১০০০ টাকা দিলে তিনি সেটি নিতে রাজি না হয়ে ১৫০০ টাকা দাবি করেন।

ভিডিওতে সেবাপ্রত্যাশী ও বজলুর রহমানের কথোপকথনে বলতে শোনা যায়, প্রথমে সেবাপ্রত্যাশী তাকে জিজ্ঞেস করেন ১৮টি খতিয়ানে আপনাকে কত টাকা দিতে হবে এর উত্তরে তিনি বলেন, আপনি কত টাকা দিলে খুশি। সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমি না দিতে পারলে খুশি। তখন ভূমি কর্মকর্তা বলেন, তাহলে আমিও না দিয়ে খুশি।

পরে বজলুর রহমান বলেন, এগুলো দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। ভোলা রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সইমহর নিতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝে মধ্যে দিয়ে থাকি। খতিয়ান এস্যিলান্ডও দিতে পারবে না। রেকর্ড রুম থেকে আনতে হয়।

এখন আমনে কত দিবেন দেন। তখন ওই সেবাপ্রত্যাশী তাকে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সে কমপক্ষে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ১০০ টাকা করে ১৮০০ টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ১৫০০ টাকা দিতে বললে সেবাপ্রত্যাশী ১০০০ টাকা দেন।

এই ঘটনার পুরো ভিডিও সেখানে থাকা কেউ একজন গোপন ধারণ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে ভোলায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সেবাপ্রত্যাশীর নাম মো. সবুজ। তার বাড়ি সাচড়া ইউনিয়নে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে বিএস খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় ওই অফিসের পিয়ন পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব তাকে জানান, খতিয়ান খুঁজে পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে এবং কাজটি বেশ ঝামেলার। পরে খতিয়ান খুঁজে দিতে কিছু টাকা দাবি করেন রাকিব। পরে সার্চিং ফি হিসেবে রাকিবকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব খতিয়ানের কপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে দেওয়া যাবে বলে রাকিব তাকে রবিবার অফিসে আসতে বলেন।

মো. সবুজ জানান, রবিবার অফিসে গেলে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান তাকে বলেন, এসব খতিয়ান দেওয়ার নিয়ম তাদের নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য কমপক্ষে ১০০টাকা করে মোট ১৮০০ টাকা দিলে তা দেওয়া সম্ভব। এ নিয়ে দরকষাকষির এক-পর্যায়ে তিনি (বজলুর রহমান) ১৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে ১০০০ টাকা দিলে অফিস সহায়ক রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে নিতে বলা হয়। কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টির মধ্যে ১৬টি খতিয়ান প্রিন্ট করাতে পারেন সবুজ। বাকি দুটি খতিয়ান না পেয়ে আবারও অফিসে গেলে তাকে পরদিন সোমবার আসতে বলা হয়।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে পাননি তিনি। তার কাছ থেকে নেওয়া কোনো টাকার রসিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সবুজ।

তিনি আরো বলেন, শুধু তিনি নন, তার মতো অনেক সেবাপ্রত্যাশী টাকা দিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন ধরে খাজনা, খতিয়ান ও নামজারির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে ওই অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. রাকিব বলেন, ‘আমি স্থায়ী কোনো পদে চাকরি করি না। অফিসের কাজে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান স্যার আমাকে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করান। কাজের ক্ষেত্রে অনেকে খুশি হয়ে আমাকে যা দেন, তাই রাখি। কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিই না।’

সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’ বজলুর রহমান কতো টাকা নিয়েছেন সেটিও জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।’

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান বলেন, ভিডিওর কিছু কিছু অংশ এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র তাদের কথা মতো অফিসে কম্পিউটার অপারেটর না নেওয়ায় তাকে চাপে ফেলতে এ কাজটি করেছে। কারো কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বোরাহানউদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাদের নজরে আসে। পরে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

 

Tag :

চীনের লাগাম টানতে শুধু স্বচ্ছতা যথেষ্ট নয়

দর-কষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৬:২৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানের দর-কষাকষি করে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে একজন সেবাপ্রত্যাশীর কাছ তেকে দর-কষাকষি করে ঘুষ নিতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাকে প্রত্যাহার করেছে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর। এর আগে মঙ্গলবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বোরহানউদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিস। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে দেখা যায়, সাচড়া ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান নিজ কার্যালয়ের চেয়ারে বসে একজন সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে জমির ভিএস খতিয়ানের ফটোকপি সরবরাহের জন্য ১৮০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

পরে ওই সেবাপ্রত্যাশী তাকে ১০০০ টাকা দিলে তিনি সেটি নিতে রাজি না হয়ে ১৫০০ টাকা দাবি করেন।

ভিডিওতে সেবাপ্রত্যাশী ও বজলুর রহমানের কথোপকথনে বলতে শোনা যায়, প্রথমে সেবাপ্রত্যাশী তাকে জিজ্ঞেস করেন ১৮টি খতিয়ানে আপনাকে কত টাকা দিতে হবে এর উত্তরে তিনি বলেন, আপনি কত টাকা দিলে খুশি। সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমি না দিতে পারলে খুশি। তখন ভূমি কর্মকর্তা বলেন, তাহলে আমিও না দিয়ে খুশি।

পরে বজলুর রহমান বলেন, এগুলো দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। ভোলা রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সইমহর নিতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝে মধ্যে দিয়ে থাকি। খতিয়ান এস্যিলান্ডও দিতে পারবে না। রেকর্ড রুম থেকে আনতে হয়।

এখন আমনে কত দিবেন দেন। তখন ওই সেবাপ্রত্যাশী তাকে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সে কমপক্ষে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ১০০ টাকা করে ১৮০০ টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ১৫০০ টাকা দিতে বললে সেবাপ্রত্যাশী ১০০০ টাকা দেন।

এই ঘটনার পুরো ভিডিও সেখানে থাকা কেউ একজন গোপন ধারণ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে ভোলায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সেবাপ্রত্যাশীর নাম মো. সবুজ। তার বাড়ি সাচড়া ইউনিয়নে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে বিএস খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় ওই অফিসের পিয়ন পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব তাকে জানান, খতিয়ান খুঁজে পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে এবং কাজটি বেশ ঝামেলার। পরে খতিয়ান খুঁজে দিতে কিছু টাকা দাবি করেন রাকিব। পরে সার্চিং ফি হিসেবে রাকিবকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব খতিয়ানের কপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে দেওয়া যাবে বলে রাকিব তাকে রবিবার অফিসে আসতে বলেন।

মো. সবুজ জানান, রবিবার অফিসে গেলে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান তাকে বলেন, এসব খতিয়ান দেওয়ার নিয়ম তাদের নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য কমপক্ষে ১০০টাকা করে মোট ১৮০০ টাকা দিলে তা দেওয়া সম্ভব। এ নিয়ে দরকষাকষির এক-পর্যায়ে তিনি (বজলুর রহমান) ১৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে ১০০০ টাকা দিলে অফিস সহায়ক রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে নিতে বলা হয়। কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টির মধ্যে ১৬টি খতিয়ান প্রিন্ট করাতে পারেন সবুজ। বাকি দুটি খতিয়ান না পেয়ে আবারও অফিসে গেলে তাকে পরদিন সোমবার আসতে বলা হয়।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে পাননি তিনি। তার কাছ থেকে নেওয়া কোনো টাকার রসিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সবুজ।

তিনি আরো বলেন, শুধু তিনি নন, তার মতো অনেক সেবাপ্রত্যাশী টাকা দিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন ধরে খাজনা, খতিয়ান ও নামজারির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে ওই অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. রাকিব বলেন, ‘আমি স্থায়ী কোনো পদে চাকরি করি না। অফিসের কাজে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান স্যার আমাকে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করান। কাজের ক্ষেত্রে অনেকে খুশি হয়ে আমাকে যা দেন, তাই রাখি। কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিই না।’

সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’ বজলুর রহমান কতো টাকা নিয়েছেন সেটিও জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।’

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান বলেন, ভিডিওর কিছু কিছু অংশ এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্র তাদের কথা মতো অফিসে কম্পিউটার অপারেটর না নেওয়ায় তাকে চাপে ফেলতে এ কাজটি করেছে। কারো কাছ থেকে টাকা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বোরাহানউদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাদের নজরে আসে। পরে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ