ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হুমকি থেকে বাঁচতে ভেনিজুয়েলার তেল ‘কেড়ে’ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মাত্র ৮ মাস আগের কথা। গত ৩ জানুয়ারি রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বিশেষ এলিট বাহিনী ডেল্টা ফোর্স ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দি করে।

এরপর তাদের বিমানে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মাদক-সন্ত্রাস ও চোরাচালানের মামলায় মাদুরো আমেরিকার কারাগারে বন্দি অবস্থায় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি আছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে আনার ঘটনা নজিরবিহীন।

যুক্তরাষ্ট্র কেন এভাবে মাদুরোকে তুলে এনেছিল, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প এটিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, এটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, এই চুক্তি ভেনিজুয়েলায় শত কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে।

রুবিও লেখেন, ‘এই চুক্তি আমেরিকান এবং ভেনিজুয়েলার জনগণ উভয়ের জন্যই একটি বিশাল জয়।’

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারিত্ব পাবে, যা আমেরিকার বর্তমান নিজস্ব তেল রিজার্ভকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে। ভেনিজুয়েলার একটি নামহীন বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি নতুন বেসরকারি কম্পানি গঠন করা হবে। এই কম্পানিটি তেলক্ষেত্রগুলো উত্তোলনের জন্য ১০০ বছরের অধিকার পাবে। নতুন এই কম্পানির ৫৫ ভাগ কার্যকর উৎপাদন অংশীদারিত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যার মধ্যে উৎপাদনী মূল্যে তেল কেনার সরাসরি অধিকার অন্তর্ভুক্ত।

এটি বাস্তবায়িত হলে কম্পানিটি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম করপোরেট তেল রিজার্ভ হোল্ডার হবে।

নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশটির তেল খাতকে বেসরকারীকরণের জন্য আইন পাস করেন, যা এই চুক্তির পথ সুগম করে।

রদ্রিগেজ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে, যেগুলোতে প্রমাণিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই চুক্তির ফলে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে এবং কারাকাস ট্যাক্স বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব পেতে পারে। রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এই চুক্তিটি ‘আমাদের দেশের পুনরুত্থানে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।’

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আমেরিকার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমানো এবং আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য পূরণেই এ চুক্তি করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ব্যবহার করেছে, যা আগস্টের শুরুতে কমে ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। ২০২৬ সালের শুরুর পর থেকে এটি ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি কমেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪.০৯ ডলার। গত বছরের এই একই সময়ে গড় মূল্য ছিল ৩.২১ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির ঘোষণা এলেও আমেরিকার বাজারে এখনই তেলের দাম কমবে না। ভেনিজুয়েলার তেল অবকাঠামো কয়েক দশক ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি মেরামত ও সচল করতে শত কোটি ডলার এবং কয়েক বছর সময় লাগবে। তাছাড়া ভেনিজুয়েলার বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই চুক্তিটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলের কিছু নেতা এটিকে আমেরিকার ’ভূমি গ্রাস’ বা জোরপূর্বক সম্পদ দখল হিসেবে সমালোচনা করছেন।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কয়েক দশকের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর বিষয়টি বিবেচনা করলে, বড় মার্কিন তেল কম্পানিগুলোকে এই অঞ্চলে ফিরে যেতে রাজি করানো বেশ কঠিন হতে পারে। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পর, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে তেল কম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দ্রুত ভেনিজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাহীরা এই সুযোগে আগ্রহ দেখালেও, দেশটির অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্কভাবও ছিল।

বৃহত্তম মার্কিন তেল কম্পানি এক্সনমোবিল-এর সিইও ড্যারেন উডস তখন বলেছিলেন, তার দৃষ্টিতে দেশটি এখন বিনিয়োগের অনুপযুক্ত। কিন্তু ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসন ভেনিজুয়েলায় এক ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ কয়েক দশক আগে যখন মার্কিন তেল কম্পানিসহ শত শত বিদেশি মালিকানাধীন সম্পত্তি জাতীয়করণ করেছিলেন, তখন মূলত ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুরি করেছিল।

ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ মাটির নিচে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, এটি বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ ভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো যেখানে ভূতাত্ত্বিকদের অব্যবহৃত তেলের সন্ধান করতে হয়, ভেনিজুয়েলার মাটির নিচের মজুদগুলো মূলত আগে থেকেই মানচিত্রভুক্ত এবং জানা। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১ ভাগ তেল উৎপাদন করে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ইরানের হুমকি থেকে বাঁচতে ভেনিজুয়েলার তেল ‘কেড়ে’ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১০:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র ৮ মাস আগের কথা। গত ৩ জানুয়ারি রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বিশেষ এলিট বাহিনী ডেল্টা ফোর্স ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দি করে।

এরপর তাদের বিমানে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মাদক-সন্ত্রাস ও চোরাচালানের মামলায় মাদুরো আমেরিকার কারাগারে বন্দি অবস্থায় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি আছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে আনার ঘটনা নজিরবিহীন।

যুক্তরাষ্ট্র কেন এভাবে মাদুরোকে তুলে এনেছিল, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প এটিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, এটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন যে, এই চুক্তি ভেনিজুয়েলায় শত কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে।

রুবিও লেখেন, ‘এই চুক্তি আমেরিকান এবং ভেনিজুয়েলার জনগণ উভয়ের জন্যই একটি বিশাল জয়।’

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারিত্ব পাবে, যা আমেরিকার বর্তমান নিজস্ব তেল রিজার্ভকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে। ভেনিজুয়েলার একটি নামহীন বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি নতুন বেসরকারি কম্পানি গঠন করা হবে। এই কম্পানিটি তেলক্ষেত্রগুলো উত্তোলনের জন্য ১০০ বছরের অধিকার পাবে। নতুন এই কম্পানির ৫৫ ভাগ কার্যকর উৎপাদন অংশীদারিত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, যার মধ্যে উৎপাদনী মূল্যে তেল কেনার সরাসরি অধিকার অন্তর্ভুক্ত।

এটি বাস্তবায়িত হলে কম্পানিটি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম করপোরেট তেল রিজার্ভ হোল্ডার হবে।

নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং দেশটির তেল খাতকে বেসরকারীকরণের জন্য আইন পাস করেন, যা এই চুক্তির পথ সুগম করে।

রদ্রিগেজ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে, যেগুলোতে প্রমাণিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই চুক্তির ফলে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে এবং কারাকাস ট্যাক্স বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব পেতে পারে। রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এই চুক্তিটি ‘আমাদের দেশের পুনরুত্থানে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।’

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আমেরিকার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমানো এবং আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য পূরণেই এ চুক্তি করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ব্যবহার করেছে, যা আগস্টের শুরুতে কমে ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। ২০২৬ সালের শুরুর পর থেকে এটি ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি কমেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪.০৯ ডলার। গত বছরের এই একই সময়ে গড় মূল্য ছিল ৩.২১ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির ঘোষণা এলেও আমেরিকার বাজারে এখনই তেলের দাম কমবে না। ভেনিজুয়েলার তেল অবকাঠামো কয়েক দশক ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি মেরামত ও সচল করতে শত কোটি ডলার এবং কয়েক বছর সময় লাগবে। তাছাড়া ভেনিজুয়েলার বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই চুক্তিটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলের কিছু নেতা এটিকে আমেরিকার ’ভূমি গ্রাস’ বা জোরপূর্বক সম্পদ দখল হিসেবে সমালোচনা করছেন।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কয়েক দশকের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর বিষয়টি বিবেচনা করলে, বড় মার্কিন তেল কম্পানিগুলোকে এই অঞ্চলে ফিরে যেতে রাজি করানো বেশ কঠিন হতে পারে। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পর, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে তেল কম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দ্রুত ভেনিজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাহীরা এই সুযোগে আগ্রহ দেখালেও, দেশটির অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্কভাবও ছিল।

বৃহত্তম মার্কিন তেল কম্পানি এক্সনমোবিল-এর সিইও ড্যারেন উডস তখন বলেছিলেন, তার দৃষ্টিতে দেশটি এখন বিনিয়োগের অনুপযুক্ত। কিন্তু ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসন ভেনিজুয়েলায় এক ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ কয়েক দশক আগে যখন মার্কিন তেল কম্পানিসহ শত শত বিদেশি মালিকানাধীন সম্পত্তি জাতীয়করণ করেছিলেন, তখন মূলত ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুরি করেছিল।

ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ মাটির নিচে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, এটি বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ ভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো যেখানে ভূতাত্ত্বিকদের অব্যবহৃত তেলের সন্ধান করতে হয়, ভেনিজুয়েলার মাটির নিচের মজুদগুলো মূলত আগে থেকেই মানচিত্রভুক্ত এবং জানা। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১ ভাগ তেল উৎপাদন করে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ