ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনায় আছড়ে পড়ে ভারতীয় ড্রোন

গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন একটি ভারতীয় ড্রোন অনিচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকা ‘কিরানা হিলসে’-এ আছড়ে পড়েছিল।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে ভারতের সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান এই তথ্য জানিয়েছেন।

জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগার বা স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়নি। মূলত ইসরায়েলের তৈরি ‘হ্যারপ’ আত্মঘাতী ড্রোনটি পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার সামরিক রাডারগুলো ধ্বংস করার জন্য উড্ডয়ন করা হয়েছিল। ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তু খোঁজার জন্য সারগোধার আকাশে প্রায় দুই ঘণ্টা চক্কর কাটে।

কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পাওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে জ্বালানি ফুরিয়ে আসায় এটি রাডার কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিরানা হিলসের একটি পাহাড়ে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।

এই মিশন চলাকালীন ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে ভারতী দাবি করেছিলেন যে ভারত কিরানা হিলসকে টার্গেট করেনি। এয়ার মার্শাল ভারতীর সেই বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল চৌহান।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই স্যাটেলাইট চিত্রে কিরানা হিলসের পাশে বিস্ফোরণের ক্ষতচিহ্ন দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিশ্চিত করেছিল যে সেখানে কোনো পারমাণবিক বিকিরণ ঘটেনি।

আইএইএ জানিয়েছিল, ড্রোনটি মূল আন্ডারগ্রাউন্ড পরমাণু বাংকার বা স্থাপনায় আঘাত করতে পারেনি, এটি কেবল ফাঁকা পাহাড়ি ঢালে আছড়ে পড়েছিল।

জেনারেল চৌহান আরও জানান, একই দিন পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের ‘স্কারদু’ ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে (আইএএফ) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে সেই অভিযানটি বাতিল করা হয়। বিকল্প লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ‘ভোলারি’ বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও গত ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায় ভারত। ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ পরিচালনা করে পাকিস্তান।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই দেশ। তবে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করে আসছে ভারত।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন শুরু হয়েছিল যেভাবে

পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনায় আছড়ে পড়ে ভারতীয় ড্রোন

আপডেট সময় ১১:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন একটি ভারতীয় ড্রোন অনিচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকা ‘কিরানা হিলসে’-এ আছড়ে পড়েছিল।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে ভারতের সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান এই তথ্য জানিয়েছেন।

জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগার বা স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়নি। মূলত ইসরায়েলের তৈরি ‘হ্যারপ’ আত্মঘাতী ড্রোনটি পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার সামরিক রাডারগুলো ধ্বংস করার জন্য উড্ডয়ন করা হয়েছিল। ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তু খোঁজার জন্য সারগোধার আকাশে প্রায় দুই ঘণ্টা চক্কর কাটে।

কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পাওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে জ্বালানি ফুরিয়ে আসায় এটি রাডার কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিরানা হিলসের একটি পাহাড়ে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।

এই মিশন চলাকালীন ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) এ কে ভারতী দাবি করেছিলেন যে ভারত কিরানা হিলসকে টার্গেট করেনি। এয়ার মার্শাল ভারতীর সেই বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল চৌহান।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই স্যাটেলাইট চিত্রে কিরানা হিলসের পাশে বিস্ফোরণের ক্ষতচিহ্ন দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিশ্চিত করেছিল যে সেখানে কোনো পারমাণবিক বিকিরণ ঘটেনি।

আইএইএ জানিয়েছিল, ড্রোনটি মূল আন্ডারগ্রাউন্ড পরমাণু বাংকার বা স্থাপনায় আঘাত করতে পারেনি, এটি কেবল ফাঁকা পাহাড়ি ঢালে আছড়ে পড়েছিল।

জেনারেল চৌহান আরও জানান, একই দিন পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের ‘স্কারদু’ ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে (আইএএফ) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে সেই অভিযানটি বাতিল করা হয়। বিকল্প লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ‘ভোলারি’ বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদ এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও গত ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায় ভারত। ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ পরিচালনা করে পাকিস্তান।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই দেশ। তবে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করে আসছে ভারত।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস