বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, ১৭ বছর দায়িত্ব পেয়েছি। একটি দেশকে শূন্য থেকে শুরু করা কঠিন। কিন্তু এখানে সমস্যা আরও গভীর। বিগত সময়ে দেশের পুরো ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়েছে। তাই দেশকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলেও এসময় জানান তিনি।
পলাতক হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাচ্ছে না বলে জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দিচ্ছে। এটি তার জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বাংলাদেশ সব পলাতক আসামিকে ফেরত চায়।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এটি করা হয়েছে। এই সরকার যেকোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কিশোরগঞ্জের পুরো বিষয় জেনে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘গত ছয় মাসে গোয়েন্দা সংস্থার কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যমে ফোন করে কোনো ধরনের চাপ দেননি। এসময় কোনো গুম বা সরকারের মদদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি। তাই সাংবাদিকেরা সরকারের ভালো কাজগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে আমরাও উৎসাহিত হবো, আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য, সংবাদ বা তথ্য প্রচার করা ঠিক নয়। সরকার আর রাষ্ট্র এক জিনিস নয়, সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রের পার্থক্য আছে। এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাসের কার্গো সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে দ্রুতই তা ঠিক হয়ে যাবে। জনগণের এই সংকটের বিষয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। তবে এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট।
এসময় তথ্য উপদেষ্টা ডা. জায়েদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চলমান সংকট সমাধানে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান। জ্বালানি খাত ভালো অবস্থায় ফেরাতে প্রায় দুই বছর লাগতে পারে বলেও জানান।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস























