ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী Logo ফোনে উত্ত্যক্ত-হুমকি, যেভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন Logo প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন Logo নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ আর নয় : গণপূর্তমন্ত্রী Logo ২৫ বছরের চরিত্রে আমির, ‘লালকারা’র জন্য কমাচ্ছেন ওজন Logo রোগীদের বিনা মূল্যে ‘সেকেন্ড ওপিনিয়ন’ দেবে স্টার ক্যান্সার সেন্টার Logo রাজধানীতে মাথা থেঁতলে ব্যবসায়ীকে হত্যা, সাক্ষ্য দিলেন আরো দুজন Logo মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ Logo ভবন নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করুন: শিক্ষকদের প্রতি ডেপুটি স্পিকার Logo কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেছে; ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে—যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন—রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।’

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

সভায় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে।

তাই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব বর্তায় যে, এই যে বিশাল একটা জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিল, অত্যাচারিত হলো, গুম হলো, আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেল—তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কিনা।’

সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমিডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণে এই লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা করা হয় :

১. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।

২. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।

৩. ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এসংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেছে; ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে—যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন—রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।’

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

সভায় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে।

তাই আমাদের ওপর একটা দায়িত্ব বর্তায় যে, এই যে বিশাল একটা জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিল, অত্যাচারিত হলো, গুম হলো, আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেল—তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি কিনা।’

সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমিডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণে এই লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা করা হয় :

১. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।

২. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।

৩. ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এসংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ