ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo যুবকদের উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি কমাতে দরকার কার্যকর পদক্ষেপ Logo দিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নটিংহাম ফরেস্টের Logo যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী Logo মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, এর সীমা থাকতে হয়: বিটিআরসির চেয়ারম্যান Logo যুদ্ধের জেরে প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল Logo ২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন Logo হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু Logo দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে না Logo এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: ফলাফল তোমার পরিচয় নয় Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা চলছে : রুহুল কবির রিজভী

যুদ্ধের জেরে প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল

গাজা যুদ্ধের জেরে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনের ক্লাব ফুটবল। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (১০ আগস্ট) রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রজব বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রীড়া কার্যক্রম এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিগ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর, ফিলিস্তিনের পেশাদার ফুটবলসহ প্রায় সব ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ধীরে ধীরে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে মাঠে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফিরতি টুর্নামেন্টটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ বা ‘হাজার শহীদের কাপ’। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করতেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ২০০টিরও বেশি ক্লাব। এর মধ্যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোর ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। তিনটি অঞ্চলেই, একই সময়ে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হবে।

যুদ্ধ আমাদের খেলাধুলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে

রজব বলেন, যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার কারণে তাদের সব ধরনের প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছিল।

তবে এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের জাতীয় চেতনা ও খেলাধুলার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যায়নি বলে জানান তিনি।

আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি জাতীয় চেতনা হারাইনি। খেলাধুলা যে আশা ও জীবনের প্রতীক হয়ে থাকবে, সেই বিশ্বাসও হারাইনি।

তবে দীর্ঘ যুদ্ধ ও স্থবিরতার কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্লাবগুলো কঠিন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

ফিফার প্রতি সমর্থনের আহ্বান।

ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা ও অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রজব। একই সঙ্গে খেলোয়াড়, ক্লাব ও শিশুদের ‘স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে’ খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার দাবি জানান তিনি।

এর আগে, ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রত্যাহার করা একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। ওই পরিকল্পনায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা ছিল।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা নিয়ে বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে ফিলিস্তিনের জন্য বিষয়টি আরও মৌলিক।

‘ফিফা কি এখনো সবার জন্য সমানভাবে নিজেদের নিয়ম প্রয়োগ করার সাহস রাখে? রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তারা কি সেই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করবে?’

ইসরায়েলি ক্লাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে পরিচালিত ফুটবল ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ফিফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের নেতাবাচক ও সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির ফিফা সদস্যপদ স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে রজব বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছি না; আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও সনদে নিশ্চিত করা বৈধ অধিকারই আমরা দাবি করছি।

প্রায় তিন বছর যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনি ফুটবলের মাঠে ফেরা তাই শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুনরারম্ভ নয়; দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাষায়, এটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আশা, জীবন ও জাতীয় চেতনা ধরে রাখার একটি প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

যুবকদের উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি কমাতে দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

যুদ্ধের জেরে প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গাজা যুদ্ধের জেরে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনের ক্লাব ফুটবল। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (১০ আগস্ট) রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রজব বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রীড়া কার্যক্রম এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিগ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর, ফিলিস্তিনের পেশাদার ফুটবলসহ প্রায় সব ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ধীরে ধীরে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে মাঠে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফিরতি টুর্নামেন্টটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ বা ‘হাজার শহীদের কাপ’। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করতেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ২০০টিরও বেশি ক্লাব। এর মধ্যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোর ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। তিনটি অঞ্চলেই, একই সময়ে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হবে।

যুদ্ধ আমাদের খেলাধুলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে

রজব বলেন, যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার কারণে তাদের সব ধরনের প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছিল।

তবে এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের জাতীয় চেতনা ও খেলাধুলার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যায়নি বলে জানান তিনি।

আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি জাতীয় চেতনা হারাইনি। খেলাধুলা যে আশা ও জীবনের প্রতীক হয়ে থাকবে, সেই বিশ্বাসও হারাইনি।

তবে দীর্ঘ যুদ্ধ ও স্থবিরতার কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্লাবগুলো কঠিন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

ফিফার প্রতি সমর্থনের আহ্বান।

ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা ও অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রজব। একই সঙ্গে খেলোয়াড়, ক্লাব ও শিশুদের ‘স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে’ খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার দাবি জানান তিনি।

এর আগে, ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রত্যাহার করা একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। ওই পরিকল্পনায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা ছিল।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা নিয়ে বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে ফিলিস্তিনের জন্য বিষয়টি আরও মৌলিক।

‘ফিফা কি এখনো সবার জন্য সমানভাবে নিজেদের নিয়ম প্রয়োগ করার সাহস রাখে? রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তারা কি সেই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করবে?’

ইসরায়েলি ক্লাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে পরিচালিত ফুটবল ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ফিফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের নেতাবাচক ও সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির ফিফা সদস্যপদ স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে রজব বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছি না; আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও সনদে নিশ্চিত করা বৈধ অধিকারই আমরা দাবি করছি।

প্রায় তিন বছর যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনি ফুটবলের মাঠে ফেরা তাই শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুনরারম্ভ নয়; দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাষায়, এটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আশা, জীবন ও জাতীয় চেতনা ধরে রাখার একটি প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ