ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইফুন ডলফিনের আঘাতে লণ্ডভণ্ড চীন, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

শক্তি বাড়িয়ে চীনের পূর্ব উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করি টাইফুন ‘ডলফিন’। প্রচণ্ড বাতাসের তোড় আর অতিভারী বর্ষণে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের নজিরবিহীন উত্তাল রূপ এবং নদীগুলোর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উপকূলজুড়ে এখন দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের ওপর দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ঝড়টি। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি। উত্তাল ঢেউ ও টানা মুষলধারে বৃষ্টির মুখে চীন সরকার দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। খবর রয়টার্সের।

পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় ভূমিধস এবং আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একা ওয়েনঝৌ শহর থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯ লাখ অধিবাসীকে, তাদের জন্য খোলা হয়েছে এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র।

ঝড়ের কবলে পড়ে দেশটির যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যস্ত। সাংহাইয়ের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দরের ১,৪০০টির বেশি এবং হাংঝৌ বিমানবন্দরের ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের দুই শতাধিক ফেরি চলাচল বন্ধ করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শত শত জাহাজকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

চীনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে সাংহাই, ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি তলিয়ে গিয়ে সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির রূপ নিতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

টাইফুন ডলফিনের আঘাতে লণ্ডভণ্ড চীন, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শক্তি বাড়িয়ে চীনের পূর্ব উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে আঘাত হেনেছে প্রলয়ঙ্করি টাইফুন ‘ডলফিন’। প্রচণ্ড বাতাসের তোড় আর অতিভারী বর্ষণে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের নজিরবিহীন উত্তাল রূপ এবং নদীগুলোর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উপকূলজুড়ে এখন দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের ওপর দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে ঝড়টি। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি। উত্তাল ঢেউ ও টানা মুষলধারে বৃষ্টির মুখে চীন সরকার দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। খবর রয়টার্সের।

পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় ভূমিধস এবং আকস্মিক প্লাবনের আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একা ওয়েনঝৌ শহর থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯ লাখ অধিবাসীকে, তাদের জন্য খোলা হয়েছে এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র।

ঝড়ের কবলে পড়ে দেশটির যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যস্ত। সাংহাইয়ের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দরের ১,৪০০টির বেশি এবং হাংঝৌ বিমানবন্দরের ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের দুই শতাধিক ফেরি চলাচল বন্ধ করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শত শত জাহাজকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

চীনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে সাংহাই, ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি তলিয়ে গিয়ে সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির রূপ নিতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস