ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জনতার পাশে সেনাবাহিনীর অবস্থান: শাসকগোষ্ঠীর শেষ হিংস্রতা Logo এমবাপ্পেকে আনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাজধানীতে দুই মেগা কনসার্ট Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: আহত অন্তত ২০ Logo ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে শুটিংয়ের আগে কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন— জানালেন অভিনেত্রী Logo ১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চাইলেন দোয়া Logo যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলি Logo ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল Logo এবার বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন নৌ কমান্ডার

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে : হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, চীনের গত চার দশকের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা বলতে কোনো দেশের মডেল হুবহু অনুসরণ করা নয়; বরং নিজস্ব বাস্তবতা ও জাতীয় প্রয়োজনের আলোকে সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা বিষয়ক ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (এসআইআরপিএ) যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরামের আয়োজন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, গত চার দশকে চীন বিশ্বের অন্যতম সফল উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। দেশটি প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে, বাজার সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে এবং বৈদ্যুতিক যান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শূন্য শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা, উৎপাদন খাতে সহযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অংশীদারত্ব বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রফতানি বহুমুখীকরণে সহায়ক হতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।

বিশ্বব্যাপী কৌশলগত প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না। পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বর্তমানে একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, এর মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং কার্যকর জনসেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, জনপ্রশাসনের আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে জনসেবা উন্নত করার কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা নীতিনির্ধারণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইআইএসএস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও নীতিগত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক সংযোগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, টেকসই অবকাঠামো, পর্যটন, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার পাশে সেনাবাহিনীর অবস্থান: শাসকগোষ্ঠীর শেষ হিংস্রতা

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে : হুমায়ুন কবির

আপডেট সময় ০৫:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, চীনের গত চার দশকের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা বলতে কোনো দেশের মডেল হুবহু অনুসরণ করা নয়; বরং নিজস্ব বাস্তবতা ও জাতীয় প্রয়োজনের আলোকে সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা বিষয়ক ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (এসআইআরপিএ) যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরামের আয়োজন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, গত চার দশকে চীন বিশ্বের অন্যতম সফল উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। দেশটি প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে, বাজার সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে এবং বৈদ্যুতিক যান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শূন্য শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা, উৎপাদন খাতে সহযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অংশীদারত্ব বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রফতানি বহুমুখীকরণে সহায়ক হতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।

বিশ্বব্যাপী কৌশলগত প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট ও পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না। পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বর্তমানে একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, এর মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং কার্যকর জনসেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, জনপ্রশাসনের আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে জনসেবা উন্নত করার কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা নীতিনির্ধারণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইআইএসএস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও নীতিগত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক সংযোগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, টেকসই অবকাঠামো, পর্যটন, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস