ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকালের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভেবে দেখে, সে আগামী দিনের (আখিরাতের) জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।’
(সুরা : আল-হাশর, আয়াত : ১৮)

প্রত্যেক মানব ও জিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো আল্লাহর ইবাদত। কারণ আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : আয-যারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

তাফসিরবিদরা বলেছেন, অর্থাৎ তারা যেন একমাত্র আমারই তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহে এই মহান প্রকল্পকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে, সে দুনিয়ায় নিরাপত্তা এবং আখিরাতে মুক্তি লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ, তারপর তারা তার ওপর অবিচল থাকে—তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

তারাই জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এটি তাদের কর্মের প্রতিদান।’
(সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৩-১৪)

এরপর আসে আপনার নিজের জন্য, পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য রেখে যাওয়া সৎকর্মের প্রকল্প। যে উত্তম কাজগুলো আপনি রেখে যাবেন, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করবেন এবং কিয়ামতের দিন গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারবেন।

নিজেকে আন্তরিকভাবে প্রশ্ন করুন

আমি কি নিজের জন্য কোনো নেক আমল সঞ্চয় করেছি?

আমি কি আল্লাহকে স্মরণ করেছি এবং তাঁর নিয়ামতের শোকর আদায় করেছি?

আমি কি সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেছি?

আমি কি সত্য কথা বলেছি এবং অঙ্গীকার রক্ষা করেছি?

আমি কি নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর আনুগত্য করেছি?

আমি কি খুশু-খুজুর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি?

আমি কি একনিষ্ঠভাবে সদকা করেছি?

আমি কি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করেছি?

আমি কি আমার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করেছি?

আমি কি আমার জীবনসঙ্গীর হক আদায় করেছি এবং সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করেছি?

আমি কি সমাজের কল্যাণে কাজ করেছি?

আমি কি কোনো ভালো কাজের বীজ বপন করেছি?

আমি কি এমন কিছু নির্মাণ করেছি, যা আমার মৃত্যুর পরও মানুষের উপকারে আসবে?

আমি কি মানুষের গোপন কথা রক্ষা করেছি?

আমি কি সম্পর্ক ও ভালোবাসার মর্যাদা বজায় রেখেছি?

আমি কি হাসিমুখে আমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি?

আমি কি মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণের দোয়া করেছি?

আমি কি আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন—এমন কথা ও কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি?

আমি কি তওবা করেছি?

আমি কি আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করেছি?

এসব এবং এ ধরনের অসংখ্য নেককাজ আসলে আপনার নিজেরই উপকারের জন্য। এগুলোর প্রতিদান আপনি কিয়ামতের দিন নিজেই দেখতে পাবেন। তাহলে ভাবুন, আপনার অবস্থান কোথায়? এসব কাজে আপনার অগ্রগতি কতটুকু?

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরকালের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু

আপডেট সময় ১১:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভেবে দেখে, সে আগামী দিনের (আখিরাতের) জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।’
(সুরা : আল-হাশর, আয়াত : ১৮)

প্রত্যেক মানব ও জিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো আল্লাহর ইবাদত। কারণ আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : আয-যারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

তাফসিরবিদরা বলেছেন, অর্থাৎ তারা যেন একমাত্র আমারই তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহে এই মহান প্রকল্পকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে, সে দুনিয়ায় নিরাপত্তা এবং আখিরাতে মুক্তি লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ, তারপর তারা তার ওপর অবিচল থাকে—তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

তারাই জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এটি তাদের কর্মের প্রতিদান।’
(সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৩-১৪)

এরপর আসে আপনার নিজের জন্য, পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য রেখে যাওয়া সৎকর্মের প্রকল্প। যে উত্তম কাজগুলো আপনি রেখে যাবেন, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করবেন এবং কিয়ামতের দিন গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারবেন।

নিজেকে আন্তরিকভাবে প্রশ্ন করুন

আমি কি নিজের জন্য কোনো নেক আমল সঞ্চয় করেছি?

আমি কি আল্লাহকে স্মরণ করেছি এবং তাঁর নিয়ামতের শোকর আদায় করেছি?

আমি কি সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেছি?

আমি কি সত্য কথা বলেছি এবং অঙ্গীকার রক্ষা করেছি?

আমি কি নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর আনুগত্য করেছি?

আমি কি খুশু-খুজুর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি?

আমি কি একনিষ্ঠভাবে সদকা করেছি?

আমি কি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করেছি?

আমি কি আমার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করেছি?

আমি কি আমার জীবনসঙ্গীর হক আদায় করেছি এবং সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করেছি?

আমি কি সমাজের কল্যাণে কাজ করেছি?

আমি কি কোনো ভালো কাজের বীজ বপন করেছি?

আমি কি এমন কিছু নির্মাণ করেছি, যা আমার মৃত্যুর পরও মানুষের উপকারে আসবে?

আমি কি মানুষের গোপন কথা রক্ষা করেছি?

আমি কি সম্পর্ক ও ভালোবাসার মর্যাদা বজায় রেখেছি?

আমি কি হাসিমুখে আমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি?

আমি কি মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণের দোয়া করেছি?

আমি কি আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন—এমন কথা ও কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি?

আমি কি তওবা করেছি?

আমি কি আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করেছি?

এসব এবং এ ধরনের অসংখ্য নেককাজ আসলে আপনার নিজেরই উপকারের জন্য। এগুলোর প্রতিদান আপনি কিয়ামতের দিন নিজেই দেখতে পাবেন। তাহলে ভাবুন, আপনার অবস্থান কোথায়? এসব কাজে আপনার অগ্রগতি কতটুকু?

বাংলা৭১নিউজ/জেএস