ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সৌদি যুবরাজের ফোন ও রিয়াদের উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে বোমার সিদ্ধান্ত থেকে পিছালেন ট্রাম্প

ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তা দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার শর্ত সাপেক্ষে। ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ আসে। এর পরপরই ইসরায়েলের সাথে পারস্পরিক আলোচনা সাপেক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্যতম দুটি শর্ত হলো- হরমুজ প্রণালির তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ এবং সার্বিক উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির চূড়ান্ত অবসান।

হামলা স্থগিত করলেও ইরানকে চরম সামরিক হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে এমন স্তরের ভয়াল আতঙ্ক, শক্তি ও সামরিক সামর্থ্য নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত ও সুসজ্জিত—যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব আর কখনো দেখেনি।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সপ্তাহের শেষেই ইরানের মূল জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিতে তীব্র আক্রমণের ছক কষছিল। এমনকি শুক্রবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনেই হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। কোনো এক পর্যায়ে তারা বলতে বাধ্য হবে, ‘আমরা আর নিতে পারছি না।’”

তবে শনিবার পরিস্থিতি মোড় নেয়, যখন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ফোন করে এই পরিকল্পিত হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি হতে যাওয়া ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংকটময় এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি করেছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বিমান ফ্লাইট বাতিল, সাময়িক আকাশসীমা বন্ধ হওয়া ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ও নতুন চুক্তির শর্তসংক্রান্ত এই বিষয়ের ওপর তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি যুবরাজের ফোন ও রিয়াদের উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে বোমার সিদ্ধান্ত থেকে পিছালেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:৪৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পূর্বপরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানে আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তা দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার শর্ত সাপেক্ষে। ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ আসে। এর পরপরই ইসরায়েলের সাথে পারস্পরিক আলোচনা সাপেক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্যতম দুটি শর্ত হলো- হরমুজ প্রণালির তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ এবং সার্বিক উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির চূড়ান্ত অবসান।

হামলা স্থগিত করলেও ইরানকে চরম সামরিক হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে এমন স্তরের ভয়াল আতঙ্ক, শক্তি ও সামরিক সামর্থ্য নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত ও সুসজ্জিত—যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব আর কখনো দেখেনি।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সপ্তাহের শেষেই ইরানের মূল জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে গুড়িয়ে দিতে তীব্র আক্রমণের ছক কষছিল। এমনকি শুক্রবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনেই হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। কোনো এক পর্যায়ে তারা বলতে বাধ্য হবে, ‘আমরা আর নিতে পারছি না।’”

তবে শনিবার পরিস্থিতি মোড় নেয়, যখন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ফোন করে এই পরিকল্পিত হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি হতে যাওয়া ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংকটময় এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি করেছে। এতে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বিমান ফ্লাইট বাতিল, সাময়িক আকাশসীমা বন্ধ হওয়া ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ও নতুন চুক্তির শর্তসংক্রান্ত এই বিষয়ের ওপর তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি